ক্যাম্পাস
কুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধর ও ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রাহাতুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলপন্থী কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় রাহাতুলের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি; তিনি কোন কোন পেজ পরিচালনা করেন তা দেখার জন্য ফোনটি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল ও শহীদ স্মৃতি হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রাহাতুল ইসলাম সিই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষ্য, ইইই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহমিদুল হক তামিমকে বিদায় জানাতে শহীদ স্মৃতি হল থেকে ২০-২২ জন বন্ধু ফুলবাড়ীগেট এলাকায় যান। রাত সোয়া ১১টার দিকে তামিমকে বিদায় জানিয়ে তাঁরা ভ্যানে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন।
রাহাতুলের অভিযোগ, ফেরার পথে খানজাহান আলী হলের সামনে পৌঁছালে কুয়েট ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা ২২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন।
পরে ভ্যানে করে শহীদ স্মৃতি হলের সামনে পৌঁছালে ইএসই ২২ বিভাগের আল সাদ রাজিন, এলই ২২ বিভাগের লোটাস, ইসিই ২২ বিভাগের পীযূষসহ কয়েকজন তাঁকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন রাহাতুল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি হলের গেটের সামনে চলে যান, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাহাতুলের দাবি, হলের গেটের সামনে লোটাস ও পীযূষ তাঁর গলা চেপে ধরে তাঁকে দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নানা ধরনের ‘ট্যাগ’ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে ‘চোর’ ও ‘নারী হেনস্তাকারী’ বলেও চিৎকার করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও জানান, টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে তাঁর পরনের পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিঁড়ে যায়। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর বিষয়টি হলের প্রভোস্ট ও সহকারী হল প্রভোস্টকে জানিয়েছেন বলে জানান রাহাতুল। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইএসই ২২ বিভাগের শিক্ষার্থী আল সাদ রাজিন বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। তাঁর দাবি, সেখানে মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রাহাতুলের পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজিন বলেন, হলের কেঁচি গেটের কাছে ধাক্কাধাক্কির সময় তাঁর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়।
মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন রাজিন। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ফোনটি নেওয়া হয়নি। রাহাতুল কোন কোন পেজ পরিচালনা করেন, তা দেখার জন্য ফোনটি নেওয়া হয়েছিল। পরে ফোনটি ফেরত দিতে গেলে তাঁর কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাহাতুল ইসলাম দাবি করেছেন, সোমবার রাতে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেটি তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাতেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’’








