ক্যাম্পাস

পাবিপ্রবিতে সরকারি চাকরির ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

পাবিপ্রবিতে সরকারি চাকরির ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে এসে বিক্ষোভ শেষ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘চাকরি তো আগেই রেডি, ভাইভা শুধু ফরমালিটি’, ‘কোটা প্রথা ছেড়ে দে, মেধাবীদের মুক্তি দে’ ইত্যাদি।


পরে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের প্রকৃত মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তোলেন তারা।


অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবু সামা বলেন, “২০২৪ সালেও আমরা একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশ হবে কোটা ও দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক। কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই প্রত্যাশা ব্যাহত হয়েছে। সরকারের ভাইভা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে আসার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজ ২০২৪ সালের মতো আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”


ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, “সরকারের একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। এর আগে এনটিআরসির নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার সে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।”


তিনি আরও বলেন, “এবার ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই এমন সুযোগ তৈরি হতে দেবে না। এর আগে আরও শক্তিশালী একটি সরকারকেও ছাত্রসমাজের আন্দোলনের মুখে পিছু হটতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারও যদি একই পথে এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি সরকারের জন্য সংকট তৈরি করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাকও আসতে পারে।”


সম্পর্কিত খবর