জাতীয়
এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করতে হবে: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এখন থেকেই কঠোর পাহারাদারি শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর কিংবা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়েই ঘরে ফিরতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার ভিত্তিতেই ১১ দল আজ একত্রিত হয়েছে। এই ঐক্য চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা-বাণিজ্য ও অপরাধমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয় অবশ্যম্ভাবী হবে—ইনশাআল্লাহ।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও রেকর্ডিং ডিভাইস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনও কি একই অন্ধকার পথে হাঁটতে চাচ্ছে—সে প্রশ্ন আজ জনগণের। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে গুন্ডা ও অস্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছে, ভোটকেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র করছে। তবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—জুলাইয়ের যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। জনগণের ভোট কেউ ছিনতাই করতে পারবে না।
ঢাকা-১৩ আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, এ এলাকাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলবাজিতে জর্জরিত করা হয়েছে। বিপথগামী তরুণদের সংশোধনের মাধ্যমে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ১১ দলের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, জামায়াত বা ১১ দল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়—১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে নেমেছে। নির্বাচিত হলে দলীয় নয়, জনগণের সরকার কায়েম করা হবে। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক সব বৈষম্য দূর করে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া হবে।
আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের রায় বিকৃত করার চেষ্টা করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। অতীতে অপরাধ করে যারা ছাড় পেয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের আর ক্ষমা করা হবে না।
ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলের প্রতীক ‘রিকশা’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এটি জনগণ, জুলাই আকাঙ্ক্ষা, তরুণ সমাজ ও নারীসমাজের প্রতীক। এই প্রতীক মামুনুল হকের হাতে তুলে দিয়ে জনগণ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাবে।
জয়ী হলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-১৩ নয়, সারা দেশ একজন ইনসাফপ্রিয় ও সাহসী কণ্ঠস্বর পাবে, যিনি সংসদে ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলবেন।








