আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটিতে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক সমীকরণে নতুন বার্তা

ডেস্ক

শেয়ারঃ

সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটিতে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক সমীকরণে নতুন বার্তা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও জর্ডান সীমান্তঘেঁষা এ ঘাঁটিটির নিয়ন্ত্রণ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে সিরিয়ার আরব সেনাবাহিনী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটন ‘শর্তসাপেক্ষ উপস্থিতি’র নামে ঘাঁটিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।


বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সিরীয় ও মার্কিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আল-তানফ ঘাঁটির দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটি ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সিরীয়-ইরাকি-জর্ডান সীমান্তে অতিরিক্ত সামরিক ইউনিট মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে; পর্যায়ক্রমে সীমান্তরক্ষী বাহিনীও নিয়োজিত করা হবে।


অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কমান্ড মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, সেনা প্রত্যাহার ‘সুশৃঙ্খলভাবে’ সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পূর্বঘোষিত পরিকল্পনার অংশ। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, আইএসআইএল হুমকি মোকাবিলায় অংশীদারদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।


আল-তানফ ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা মূলত সম্মিলিত টাস্কফোর্স-অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভ–এর অধীনে আইএসআইএসবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত ছিল। ২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জোটের অভিযানে এ ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। পরে ২০১৯ সালে আইএসআইএস দমনের অজুহাতে এ অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়।


পেন্টাগন ২০২৫ সালের এপ্রিলে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল। সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে প্রত্যাহারের সময়কাল ও কৌশলগত উদ্দেশ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন বিদেশি সামরিক উপস্থিতির পর আল-তানফের নিয়ন্ত্রণ দামেস্কের হাতে ফিরে আসা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী এ ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে অতীতে নানা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন আঞ্চলিক বাস্তবতার স্বীকৃতি, অন্যদিকে সিরিয়ার ভেতরকার ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইএসআইএল ইস্যুতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা কী হবে—সে প্রশ্ন এখনও উন্মুক্ত রয়ে গেছে।


সম্পর্কিত খবর