আন্তর্জাতিক

মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জেসি জ্যাকসনের মৃত্যু

ডেস্ক

শেয়ারঃ

মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা জেসি জ্যাকসনের মৃত্যু- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রখ্যাত নেতা ও ধর্মযাজক জেসি জ্যাকসন আর নেই।


মঙ্গলবার সকালে ৮৪ বছর বয়সী জ্যাকসন মারা যান। এক বিবৃতিতে তার পরিবার এ তথ্য জানিয়েছে।


পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ও রেইনবো পুশ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা রেভারেন্ড জেসি লুইস জ্যাকসন সিনিয়র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।


জেসি জ্যাকসনের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি (পিএসপি) নামে এক বিরল স্নায়ুজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে ২০১৫ সালে তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়েছিল বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়।


জেসি জ্যাকসনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা শোক জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে জ্যাকসনকে ‘একজন সত্যিকারের দানবসম নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জ্যাকসনের অংশগ্রহণ তার নিজের রাজনৈতিক অভিযাত্রার পথ তৈরি করে দিয়েছিল।


১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে জন্ম নেওয়া জেসি জ্যাকসন ষাটের দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং ১৯৬৮ সালে টেনেসিতে কিং হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গেই ছিলেন।


জ্যাকসন ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও তিনি মনোনয়ন পাননি, তবে তার প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


পরবর্তী সময়ে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টিতে একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সামাজিক ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন।


জেসি জ্যাকসন স্ত্রী জ্যাকলিন ও তাদের ছয় সন্তান রেখে গেছেন। তার ছেলে জেসি জ্যাকসন জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেসম্যান।


সম্পর্কিত খবর