ক্যাম্পাস

‘রমজানের শিক্ষা দিয়ে গড়তে হবে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি’

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

‘রমজানের শিক্ষা দিয়ে গড়তে হবে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি’- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বাংলাদেশের অন্যতম লেখক ও গবেষক মারদিয়া মমতাজ বলেছেন— সাংস্কৃতিক আন্দোলন; এটি খুবই কঠিন জিনিস। এই রাস্তায় গেলে মানুষ ভেসে যায়। এই রমজান থেকে আমরা যে ধরনের গুণগুলো শিখব, সেগুলো দিয়েই আমাদের জীবনে একটি বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।


বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াই থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘মানবসভ্যতায় রমাদান: সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বিনির্মাণ’ শিরোনামে এক ইফতার সেমিনারে এ সব কথা বলেন গবেষক মারদিয়া মমতাজ।


মারদিয়া মমতাজ আরো বলেন, আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা বিভ্রান্ত না হয় আমি মুসলমাননা-কি বাঙালি?— এই প্রশ্নে।


সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসাইন, প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, চাকসুর ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, তেসাসের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মোমিন ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ উদ্দিন রিয়াদসহ সাহিত্য সংগঠনের লেখকবন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পৃথিবীতে আল কোরানের বাইরে প্রকৃত সাহিত্য নেই—এটাই একমাত্র সাহিত্য।

মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা এতে একত্রিত হয়েছে। সংস্কৃতি ও সভ্যতার মৌলিক ভিত্তি এখানে বর্ণিত। জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নানা দিক এতে আলোচিত।

রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও ন্যায়ের দিশা দেওয়া হয়েছে। ভাষা ও বক্তব্যে এর মহিমা অতুলনীয়। সর্বোচ্চ সাহিত্যিক গভীরতা এখানেই পাওয়া যায়। তাই এর প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।


এরআগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ উদ্দিন রিয়াদ জানান, রমাদান কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার মাস নয়; এটি মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে এই আয়োজন। সেমিনারে আগত লেখকবন্ধুদের জন্য রমজান শুভেচ্ছা কার্ড, দিনপঞ্জিকা ও ইফতার প্রদান করা হয়েছে।


আয়োজকেরা প্রত্যাশা করেন, রমাদানের চেতনায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোচনাকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি করবে।


সম্পর্কিত খবর