ক্যাম্পাস

চবির বিজ্ঞপ্তিতে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ লিখে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

চবির বিজ্ঞপ্তিতে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ লিখে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)-এর আইন বিভাগের একটি পরীক্ষা সূচির বিজ্ঞপ্তিতে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (২৯ মার্চ) রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি ড. রকীবা নবী স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির একটি পরীক্ষা সূচির বিজ্ঞপ্তিতে এই লেখা প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— ২০২৫ সালের দ্বিতীয় বর্ষ আইন স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, তাদের পরীক্ষা নিম্নবর্ণিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিজ্ঞপ্তির পাতার একেবারে ওপরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর নিচে লেখা রয়েছে— ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।


এ নিয়ে আজ (৩০ মার্চ) সোমবার বিজ্ঞপ্তিটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার বলেন, “এ বিষয়ে বিভাগ থেকে তথ্য নিন। বিভাগের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ভালোভাবে বলতে পারবেন।”


এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি ড. রকীবা নবীর সঙ্গে বিকেল ৪টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার ১৪ সেকেন্ডের মাথায় তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বিভাগের প্রধান ড. রকিবা নবী নিজেই আওয়ামী লীগের সমর্থক। এর আগে তিনি আইন অনুষদের ডিন ড. জাফর উল্লাহ তালুকদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাইবিরোধী আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষক রোমান শুভকে হল গার্ড দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছিলেন।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও শিক্ষকদের মধ্যে যারা এতে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সেটি সবার নজরে আসার কথা। এটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন। তিনি সবসময় রোমান শুভসহ ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতা করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। দোসরদের পাশে বসিয়ে নতুন উপাচার্য সভা করছেন।”


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “সকাল থেকেই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাই জানে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া ঘটনাটিকে আমরা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি আমাদের চাকসুর জিএস উপাচার্যকে জানিয়েছেন। আমরা সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “আমি বর্তমানে একটি সভায় আছি। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান, দেখে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।”


সম্পর্কিত খবর