ক্যাম্পাস

বার কাউন্সিলে সাফল্য: গোবিপ্রবির ৮১ শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বার কাউন্সিলে সাফল্য: গোবিপ্রবির ৮১ শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত- খবরের থাম্বনেইল ফটো

এ বছর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বিভাগের চারটি ব্যাচ থেকে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগ হিসেবে বর্তমানে আইন বিভাগের মোট ১০টি ব্যাচ চলমান রয়েছে। শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীদের মেধা, প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এবারও এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


জানা যায়, এ বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।


গত ১৫ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায়, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।


বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করতে তাঁদের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ এবং ১৩ থেকে ১৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় নির্ধারিত রোল নম্বরধারী প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা বাংলাদেশে আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।


এ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফলাফলপ্রাপ্ত নব্য আইনজীবী ও ১৭তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস)-এ সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ সাদিকুর রহমান রোমান বলেন,

“নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ একদমই নবীন। তবে ইতোমধ্যে এ বিভাগ থেকে তিনজন বিচারক হয়েছেন। এবছর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রায় ১০০ জন নতুন করে অ্যাডভোকেট হিসেবে এনরোলমেন্ট পেয়েছেন, যা আইন বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। আমি বর্তমানে ভোলায় সিভিল জজ হিসেবে কর্মরত আছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমিও এবার এনরোল করেছি। যদিও এখন আর প্র্যাকটিসে আসার সুযোগ নেই, তবে আমার বিশ্বাস আমার বন্ধুদেরসহ প্রায় ১০০ জন নবীন আইনজীবী আইন পেশায় সুনাম অর্জন করবে এবং বিভাগের ভবিষ্যৎ সাফল্যে অবদান রাখবে।”


আইনজীবী তালিকাভুক্ত হওয়া আরেক শিক্ষার্থী (২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষ) মো. রিয়াদ আহমেদ বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পরবর্তী ব্যাচগুলোর জন্য আমার পরামর্শ থাকবে—পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্যই বেয়ার অ্যাক্টকে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধুমাত্র গাইড বই বা কোচিং নোট একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী করতে পারে না। এতে অনেক জ্ঞানের ঘাটতি থেকে যায়।”


তিনি আরও বলেন, “সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষ আইনজীবীর প্রয়োজন। সে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি আইনের শিক্ষার্থীকে এগিয়ে আসতে হবে।”


এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান (সহযোগী অধ্যাপক) মানসুরা খানম বলেন, “আমরা যখন প্রথম বিভাগটি চালু করি, তখন অনেক সীমাবদ্ধতা ও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ১০টি ব্যাচ চলমান রয়েছে। এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। নব্য আইনজীবীদেরসহ এ বিভাগ থেকে যাঁরা আইনজীবী হয়েছেন সবাইকে বিভাগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। এটি আমাদের আইন বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অর্জন। আশা করছি, এই সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”


নব্য আইনজীবীদের শুভকামনা জানিয়ে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আমাদের শিক্ষার্থীরা আইনজীবী হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং পেশাগত জীবনে বিশেষ সুনাম অর্জন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। জনমানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


তিনি আরও বলেন, “এর আগেও আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা জুডিশিয়ারিতে সাফল্য অর্জন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আবার অনেকে ব্যাংক, বীমা, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। অনেকেই শিক্ষক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছেন।”


ড. রাজিউর রহমান বলেন, “পূর্বসূরীদের অর্জিত সাফল্য বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি, বই, বিভাগ ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।”


সম্পর্কিত খবর