ক্যাম্পাস

আবারো পাবিপ্রবি লেকে ৪ পাতি সরালি অবমুক্ত করলেন পাবনার পাখিপ্রেমীরা

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

আবারো পাবিপ্রবি লেকে ৪ পাতি সরালি অবমুক্ত করলেন পাবনার পাখিপ্রেমীরা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

পাবনা শহরের বড় বাজার থেকে শিকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করা চারটি পাতি সরালি পাখি অবমুক্ত করেছেন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সদস্যরা।


সোমবার (৩০ মার্চ) পাবনা শহরে এক শিকারি ২০টি পাখি এনে প্রতিটি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন। এ সময় ঘটনাটি নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সদস্যদের নজরে আসে। তারা বিক্রেতাকে পাখি শিকারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন। পরে অবশিষ্ট চারটি পাখি অর্থের বিনিময়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তারা।


পরবর্তীতে পাখিগুলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের লেকে অবমুক্ত করা হয়। মুক্ত পরিবেশে ফিরে পেয়ে পাখিগুলোকে লেকের পানিতে সাঁতার কাটতে দেখা যায়, যা উপস্থিতদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি করে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবিপ্রবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম, প্রভাষক আবরার তাজওয়ার রিজন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খালিদ ইকবাল এবং নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি পাবনার সদস্য রাকিবুজ্জামান শাদ ও প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ।


উপস্থিত বক্তারা জানান, শীত মৌসুমে আগত অতিথি পাখি শিকার একটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের শিকার হচ্ছে এসব পাখি। শুধু শিকারিরাই নয়, শহরের উচ্চবিত্ত শ্রেণির কিছু অসচেতন মানুষের চাহিদাও তাদের এ ধরনের শিকারে উৎসাহিত করছে।


বক্তারা আরও বলেন, অর্থের বিনিময়ে এসব বিলুপ্তপ্রায় পাখি কিনে ভক্ষণ করার প্রবণতা প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধ করতে হবে।


পাখিপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে এবং ভবিষ্যতে পাখি সংরক্ষণে মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।


সম্পর্কিত খবর