ক্যাম্পাস
যবিপ্রবিতে কুকুরের কামড়ে শিক্ষার্থী আহত, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে কুকুরের কামড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, একাডেমিক ভবন, হল ও ক্যাফেটেরিয়ার আশপাশে হিংস্র কুকুর দ্বারা আক্রমণ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত বিন খালিদকে পায়ে কামড় দেয় একটি দলবদ্ধ কুকুর।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত সাড়ে আটটার সময় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠে হঠাৎ ৮টি কুকুর রিফাতকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে তার মধ্যে একটি কালো কুকুর তার দিকে তেড়ে এসে কামড় দেয়। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।
ফিনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বাপ্পী বলেন, “২-৩ দিন আগে সন্ধ্যায় আমরা একাডেমিক ভবনের পাশে বসে ছিলাম, হঠাৎ পেছন থেকে কুকুর হিংস্রভাবে ধাওয়া করে। দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করলে কুকুরগুলো আবার পিছু নেয়। শেষে ঢিল মেরে নিজের রক্ষা করি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “দিন দিন কুকুরগুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাহিম খান রাতুল লিখেছেন, “কুকুরের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিলে পশুপ্রেমীরা প্রতিবাদ করেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা আহত হলে প্রশাসন চুপ থাকে কেন?”
মাহমুদুল হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রশাসনের উচিত মধ্যমপন্থী ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে আতঙ্কগ্রস্ত ও পশুপ্রেমিরা উভয়ই সন্তুষ্ট থাকে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ প্রশাসনের দায়িত্ব।”
এই বিষয়ে সিকিউরিটি ও স্টেট শাখার সহকারী রেজিস্টার ড. মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রতি সপ্তাহে স্টাফদের মাধ্যমে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করার চেষ্টা করি। আগে যেমন অনেক কুকুর দেখা যেত, এখন তেমন দেখা যায় না। কুকুর মারা আইনত সম্ভব নয়। ভ্যাকসিনের বিষয়টি কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”







