ক্যাম্পাস
সহপাঠীর ওপর হামলার বিচার চেয়ে যবিপ্রবিতে এআইএস বিভাগের বিক্ষোভ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মারামারিতে আহত এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সাইফুল্লাহর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা “আমার ভাই আহত কেন, জবাব চাই জবাব দাও”, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “নিরাপদ ক্যাম্পাস, আমাদের অধিকার”, “সন্ত্রাসীদের জায়গা, এই১ ক্যাম্পাসে হবে না”, “এক হও এক হও, এআইএস এক হও”- সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে উক্ত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক ইকবাল বলেন, হামলাকারীরা সবাই মাদকাসক্ত ছিলো। যে কারণে এমন ভাবে হামলা চালিয়েছে তারা। কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। আশা করছি, প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করবেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর ওপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল খেলা চলাকালে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে উচ্ছৃঙ্খল কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে জিমনেসিয়ামের বাইরে এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর ওপর অতর্কিতভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি দিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিযুক্তরা হলেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফিজ, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, সাজ্জাদ, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাফি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নাহিন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুজয়, এজাজ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী গোবিন্দ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইয়ারুল কবীর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







