ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) হলো বাংলাদেশের একটি অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা পূর্বে "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)" নামে পরিচিত ছিল। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নামে রূপান্তর করে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাস গোপালগঞ্জ জেলা সদরের গোবরা নামক স্থানে অবস্থিত এবং এর বর্তমান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।


২০০১ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে এর আইন পাস হয় এবং ১৩ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান শুরু হয়।


বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় পথচলা, অর্জন এবং ঐতিহ্যের স্মারক। এই দিনে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাস। র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজের মাধ্যমে বিদ্যাপিঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়, যা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে।


বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ বছর প্রতিষ্ঠানটি ২৫ বর্ষে পদার্পণ করছে। গত ২৪ বছরে ক্যাম্পাসের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারে গোবিপ্রবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাঁদের ভাবনা, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা। লিখেছেন মো:রেজাউল করিম।


পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন,


বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানী তৈরির কারখানা। প্রতিবছর কতশত জ্ঞানী তৈরি করছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়।গোবিপ্রবির ২৫তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীরা নাচ-গান এবং উৎসবের আমেজে ক্যাম্পাসটি ভরিয়ে রাখে। বাস্তব হোক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বোঝা যায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কত এগিয়ে আছে। একজন গোবিপ্রবিয়ান হিসেবে, প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশাবাদী। 


পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো:ইব্রাহিম হোসেন বলেন,


গোবিপ্রবি আমার কাছে একটা পরিচয়, ভালোবাসা আর আবেগের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়টি আবাসন, ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যাম্পাসের জায়গা-সংকটসহ নানামুখী সংকটে জর্জরিত। এসব সংকটের পরেও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গোবিপ্রবি সুনামের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি সব সংকট কাটিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত হোক, এটাই চাওয়া।


একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিয়া খাতুন বলেন,


গোবিপ্রবির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার প্রসার, দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের আন্তরিক সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ। তবে ল্যাব, ইন্টারনেট ও শিক্ষক সংকট এবং ক্যাফেটেরিয়া-হলের খাবারের নিম্নমান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে সবুজ-শান্ত ক্যাম্পাসের নিয়মিত পরিচর্যা, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ সবসময় উন্মুক্ত রাখা এবং বাড়তি ছুটিকে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে গোবিপ্রবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়াই আমার প্রত্যাশা।


সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিত্র বিশ্বাস বলেন,


গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের সবার জন্য গর্বের দিন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে করি। শিক্ষক, বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়র এবং সুন্দর ক্যাম্পাস প্রতিদিন আমার শিক্ষাজীবনকে সমৃদ্ধ করছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। গত ২৫ বছরে শিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি অনুপ্রেরণার উৎস, এবং বিশ্বাস করি আগামীতে এটি দেশ-বিদেশে আরও সুনাম অর্জন করবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও গৌরব কামনা করছি। শুভ হোক আমাদের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা।


ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন,


জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হওয়া পথচলার আজ গৌরবময় ২৫ বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পথচলা শুরু হয়, আর অল্প সময়েই এই ক্যাম্পাস আমাকে শিখিয়েছে নতুনভাবে ভাবতে ও স্বপ্ন দেখতে। তাই এই রজত জয়ন্তী আমার কাছেও আনন্দ, গর্ব ও কৃতজ্ঞতার এক বিশেষ মুহূর্ত।

শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও সকল শিক্ষার্থীদের, যাঁদের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়টি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রার্থনা করি, আগামীতেও এটি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় নতুন সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে দেশ-বিদেশে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক।


লেখক : মো: রেজাউল করিম

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি


সম্পর্কিত খবর