জাতীয়
সরকারি মৌলিক সেবা পেতে জন্ম নিবন্ধন সবার প্রয়োজন

দেশের সকল মানুষকে জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০০১ সালে ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
তখন হাতে কলমে প্রতিটি মানুষের জন্ম ও মৃত্যু সনদ দেওয়া হতো। আগের আইন স্থগিত করে ২০০৪ সালে সরকার ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪’ পাশ করে।
আইনটি ২০০৬ সালের ০৩ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। ২০১০ সাল থেকে অনলাইনে জন্ম সনদ দেওয়া শুরু হয়। ২০১৬ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়।
এরপর থেকে সরকার এই কার্যক্রম রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেল কার্যালয়ের’ মাধ্যমে পরিচালিত করছে।
বর্তমানে দেশে ১৬টি মৌলিক সেবা পাওয়ার জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন।
এগুলো হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিয়ের নিবন্ধন, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান, পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগ, ব্যাংক হিসাব খোলা, গ্যাস-পানি-টেলিফোন-বিদ্যুতের সংযোগ, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানী ও রপ্তানী লাইসেন্স, ঠিকাদারি লাইসেন্স, জমির নিবন্ধন এবং বাড়ির নকশা অনুমোদন।
আর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন, পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন।
মৃত্যু নিবন্ধিত না হলে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। মৃত্যু নিবন্ধন করতে হলে মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে। জন্ম নিবন্ধন করা না থাকলে মৃত ব্যক্তির আগে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে, এরপর তার মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সব ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একটি শিশুর জন্ম নিজ দেশকে, বিশ্বকে আইনগতভাবে জানান দেওয়ার একমাত্র পথ জন্মের পর জন্ম নিবন্ধন করা।
রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা পেতে এই নিবন্ধন জরুরি। শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।
পল্লী এলাকার শিশু জন্ম নিলে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে, পৌর এলাকার পৌরসভায়, সিটি কর্পোরেশন এলাকার নির্ধারিত সিটি কর্পোরেশনে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সংশ্লিষ্ট ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কোন বাংলাদেশীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুতাবাসে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। শিশুর মা-বাবা বা অভিভাবক এবং তথ্য সংগ্রহকারীর সদিচ্ছা জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট।
জন্ম নিবন্ধন শিশুর জাতীয়তা, বয়স, নামকরণ, স্থায়ী ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ের নিশ্চয়তা দেয়। এ অধিকার নিশ্চিত করতে সবার আগে শিশুর মা-বাবা বা অভিভাবককে এগিয়ে আসতে হবে।
শিশু জন্মের পর শিশুর আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণের মতোই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করাকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুর জন্ম নিবন্ধন শতভাগ সফল করার জন্য প্রতিবছর জাতীয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন দিবস উদযাপন করা হয়।
শিশুর জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে সকল অভিভাবক সোচ্চার হোক, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন হোক এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।







