বিনোদন
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন থেকে রুপালি পর্দায় সাই পল্লবীর অনন্য যাত্রা

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই জন্মভূমি ছেড়ে দূর তিবলিসি শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাই পল্লবী। কিন্তু ভাগ্যের পরিক্রমায় সেই স্বপ্নই তাকে নিয়ে আসে রুপালি পর্দার ঝলমলে দুনিয়ায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেও অভিনয় দক্ষতায় খুব অল্প সময়েই তিনি জয় করে নিয়েছেন দর্শকদের হৃদয়।
১৯৯২ সালের ৯ মে ভারতের কোয়েম্বাটুর-এ জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর শৈশব কেটেছে কোটাগিরির পাহাড়ঘেরা পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। যদিও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি, তবুও বিভিন্ন টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেখান থেকে তেমন সাফল্য আসেনি।
এরপর লক্ষ্য স্থির করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার জন্য তিনি ভর্তি হন তিবলিসি স্টেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ। স্বপ্ন ছিল সাদা অ্যাপ্রন গায়ে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার। কিন্তু পড়াশোনার ফাঁকেই এক পরিচালকের নজরে পড়েন তিনি, যা বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ।
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া প্রেমাম সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে সাই পল্লবীর। ‘মালারে’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। শুটিং শেষে ২০১৬ সালে আবারও পড়াশোনায় ফিরে গিয়ে সফলভাবে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
‘প্রেমাম’-এর সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০১৬ সালে কালী এবং ২০১৭ সালে ফিদা তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। এরপর অথিরণ, পাভা কাধাইগল, লাভ স্টোরি এবং শ্যাম সিংহ রায়-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।
দীর্ঘ এক দশকের ক্যারিয়ারে সাই পল্লবী প্রমাণ করেছেন, মেকআপ ছাড়াও শুধুমাত্র মেধা ও অভিনয় দক্ষতা দিয়েই দর্শকদের মন জয় করা সম্ভব। দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতে সাফল্যের পর এবার তিনি বলিউডে পা রাখতে যাচ্ছেন। বহুল প্রতীক্ষিত রামায়ণ চলচ্চিত্রে সীতার চরিত্রে তাকে দেখা যাবে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে তারকা হয়ে ওঠার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।







