ক্যাম্পাস
নবীন জবিয়ানদের পদযাত্রায় মুখরিত ক্যাম্পাস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবীন জবিয়ানদের পদযাত্রায় মুখরিত হয়ে ওঠে জবি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের পাশাপাশি নবীন বরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ছাত্রদল এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ।
রবিবার (৩ মে) নবীনদের বরণের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ২১তম ব্যাচের ক্লাস। এদিন ক্যাম্পাসে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ থেকে নবীন বরণের আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়াও অনেককে প্রথম দিনেই দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড। জকসুর পক্ষ থেকে চকলেট, কলম, ফুল ও বাস রুটের কপি বিতরণ করা হয়। এছাড়া ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে নবীন বরণ করা হয়।
নবীন শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ব্যাচ হিসেবে এসে আমরা ভীষণ আনন্দিত ও গর্বিত। প্রথম দিনেই বিভাগভিত্তিক নবীনবরণ ও সিনিয়রদের আন্তরিকতায় ক্যাম্পাসটাকে আপন মনে হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের স্বাগত জানানো আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুটা খুবই সুন্দর হয়েছে, আশা করছি এখানকার দিনগুলো আরও স্মরণীয় হবে।”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী রাফিয়া রায়হানা রিশা বলেন, “প্রথম দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণের অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ। বড় ভাইয়া-আপুদের স্নেহাতুর হাতছানি আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোমল ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় আমি অভিভূত। যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জবিতে প্রথম দিনেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হাতে আইডি কার্ড তুলে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
ইংরেজি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, “প্রত্যেক বিভাগে আলাদা করে নবীনবরণ হওয়ায় নিজের বিভাগকে আরও কাছের মনে হচ্ছে। সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের উষ্ণ অভ্যর্থনা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মেহেরিন সুলতানা বলেন, “ক্যাম্পাসে এসে শুরুতে একটু নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু নবীনবরণ আর ছাত্র সংগঠনগুলোর স্বাগত দেখে সেই ভয় কেটে গেছে। সবাই খুব সহযোগিতা করছে, এটা খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে বিভাগের আয়োজনটি সত্যিই মুগ্ধ করার মতো ছিল। যেমনটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক সুন্দর আয়োজন ছিল।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী রাফিদা হাসান বলেন, “প্রথম দিনেই এত সুন্দর আয়োজন সত্যিই আশা করিনি। সিনিয়রদের আন্তরিকতা আর ছাত্র সংগঠনগুলোর সহযোগিতামূলক আচরণ আমাদের অনেক স্বস্তি দিয়েছে। মনে হচ্ছে, এখানে আমরা নতুন একটা পরিবার পেয়েছি।”
সমাজকর্ম বিভাগের সন্ধ্যা মনি বলেন, “ভার্সিটির প্রথম দিনটা অন্যরকম একটা অনুভূতি। নতুন ক্যাম্পাস, নতুন মানুষ, নতুন স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ভয়, লজ্জা আর উত্তেজনা একসাথে কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো আজ।”
ছাত্র অধিকার সভাপতি একে এম রাকিব বলেন, “আমরা নবীনবরণে চেষ্টা করেছি সকলকে বরণ করে নেওয়ার।”
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নতুন যারা এসেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাদের সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠতে হবে। আমরা চাই, তারা মুক্ত চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এগিয়ে যাক।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চায়। যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমরা জকসুর পক্ষ থেকে আজ নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছি। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে চকলেট, কলম ও ফুল তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের প্রথম দিনের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও ভালো লাগা তৈরি করতে আমরা এ ছোট্ট উপহার ও শুভেচ্ছার আয়োজন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদাভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো, ইনশাআল্লাহ। সেখানেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের উপহার থাকবে।”





