ক্যাম্পাস
কুবিতে নির্দেশনা ও কাউন্সিলিংভিত্তিক ব্যতিক্রমী নবীন বরণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন আয়োজন শুরু হয়েছে।
একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক এই ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে অর্থনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্বর্ণা মজুমদার ও লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহরিয়ার হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং ছাত্র পরামর্শক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আগামী ৯ দিন প্রতিদিন দুটি করে বিভাগ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
অনুষ্ঠানে মোট পাঁচটি সেশন অনুষ্ঠিত হয় ।সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক বন্ধু নির্বাচন। বর্তমানে সারা দেশে অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আচরণগত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী যদি শিষ্টাচার ও আচরণবিধি না বোঝে, তবে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অর্থবহ হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি।
একই সঙ্গে মাদকের মতো মারাত্মক ব্যাধি থেকে দূরে থাকতে হবে -কারণ মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ছাত্রত্ব বাতিল হতে পারে।এছাড়া র্যাগিং একটি গুরুতর অপরাধ; গত বছর এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। তাই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাই। তোমরা 'সেরাদের সেরা', কারণ প্রতি আসনের বিপরীতে শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে এখানে স্থান করে নিয়েছো।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমনভাবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেছে যাতে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে না পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারে। তোমাদের সফলতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি তোমাদের পরিবার ও দেশের জন্যও গর্বের বিষয়। তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একটি পরিবর্তনের সময়।
এখানে তোমরা স্বাধীনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। ভালো ও খারাপের পথ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব এখন তোমাদের নিজেদের। সঠিক পথে চললে অনেক বড় কিছু অর্জন সম্ভব, আর ভুল পথে গেলে ক্ষতিও তত দ্রুত হতে পারে। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে পরিবারের প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে।
তাই নিজেকে দায়িত্বশীল, সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি, তবে পড়াশোনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা উচিত নয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, 'অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত হলো যথাযথ নীতিমালা ও একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। শুধু ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ বা ‘কোয়ালিটি গ্র্যাজুয়েট’ তৈরির কথা বললেই হবে না এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মানদণ্ড অর্জন। তিনি আরও বলেন 'বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অবস্থান এবং গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা সবকিছুরই নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে।
সেই মানদণ্ডে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই প্রত্যাশা নিয়েই আমাদের অগ্রযাত্রা।আমরা ইতোমধ্যে প্রচলিত পাঠ্যক্রম থেকে বেরিয়ে আউটকাম বেইসড কারিকুলামের দিকে অগ্রসর হয়েছি, যা আমাদের নতুন পথচলার সূচনা। আজকের কর্মসূচিতে বিভিন্ন সেশন রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ সেশনে আমরা দেখাবো তোমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কোথায় এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও আমরা গ্রহণ করেছি।'






