জাতীয়
বাংলাদেশ-সুইডেন সম্পর্ক নতুন মাত্রায়, সমাজকল্যাণ খাতে সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা খাতে সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সুইডেন সরকারের চলমান উন্নয়ন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরো জানান, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি এবং দ্বিতীয় ধাপে বগুড়ায় ৯১১টি নারীপ্রধান পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে, যা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্তরে ফুড প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণ, শিশু একাডেমির মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে ভাষা ও কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে।
সুইডেনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আগ্রহী।
রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সুইডেন দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর করতে চায়। নারী ও শিশু সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু পুষ্টি, শিক্ষা এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সুইডেনের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুইডেন প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিশু অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি এবং টেকসই সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এই বৈঠককে বাংলাদেশ-সুইডেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।







