ক্যাম্পাস
জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে রাবিতে 'গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক' অনুষ্ঠিত

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৬।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে ''ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে, জীবাশ্ম-মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে''- স্লোগানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে আন্দোলনকারীদের 'কয়লা-গ্যাসে ভর্তুকি নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ চাই', 'সবার জন্য সাশ্রয়ী-জ্বালানী চাই', 'আমাদের জেলায় নবায়যোগ্য জ্বালানি চাই, জীবাশ্ম জ্বালানীর যুগ শেষ' সহ বিভিন্ন ফেস্টুন হাতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের নয়, বরং বর্তমানের বড় সংকট। পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে আয়োজিত এই ক্লাইমেট স্ট্রাইক মূলত মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বিশেষ করে যারা কম দূষণ করে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তাদের জন্য ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় দূষণকারী দেশগুলোকে এর দায় নিতে হবে। ঋতুচক্রের পরিবর্তন ও তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এখনই পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”
এ সময় প্রজেক্ট আর্থকেয়ারের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আররাফি সিরাজী অন্তর বলেন, “জলবায়ু সংকট এখন আমাদের বাস্তবতা। আমরা শুধু প্রতিবাদ করতে আসিনি, পরিবর্তনের দাবিও জানাতে এসেছি। তরুণদের এই কণ্ঠস্বর প্রমাণ করে, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব নই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু রক্ষা করা মানে শুধু মানুষের জন্য নয়, পৃথিবীর সব প্রাণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতিযোগিতা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উল্লেখ্য, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী Greta Thunberg ২০১৮ সালে 'Fridays for Future' আন্দোলনের সূচনা করেন। তার উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী তরুণদের জলবায়ু আন্দোলনে যুক্ত করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।


