বাণিজ্য
রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ১১ দফা দাবি

করপোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়াসহ জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প চরম সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই খাত ধ্বংসের মুখে।
রোববার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকরা সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তারা জানান, জ্বালানি সংকট, উচ্চ কর এবং প্রশাসনিক হয়রানির কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা খাত বর্তমানে চরম চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়াসহ শিল্পনীতির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের নামে হয়রানি এবং ট্রেড ইউনিয়নের চাঁদাবাজির কারণে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ছে এবং কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে।
তাদের মতে, এলপিজি সংকট নিরসন, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু পুনরায় চালু এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের ব্যয়ও ক্রমেই বাড়তে থাকবে বলে সতর্ক করেন তারা।
এ সময় দেশের রেস্তোঁরা খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে বর্তমান সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানানো হয়-
১) রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন।
২) আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো।
৩) এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু।
৪) বিভিন্ন দফতরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা।
৫) রেস্তোরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সকল অধিদফতরের হয়রানি বন্ধ করা।
৬) রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা।
৭) রেস্তোরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন।
৮) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুণরায় চালু করা।
৯) রেস্তোরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজি সহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
১০) গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেয়া।
১১) সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তোরাঁ সেক্টরে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।







