আন্তর্জাতিক

ঘুষ নেওয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ২০ মাসের কারাদণ্ড

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ঘুষ নেওয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ২০ মাসের কারাদণ্ড- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ঘুষ গ্রহণের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বুধবার দেওয়া রায়ে শেয়ার কারসাজি ও অন্যান্য অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


৫৩ বছর বয়সী কিমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। ঘুষ, প্রভাব খাটানো এমনকি একাডেমিক জালিয়াতির অভিযোগ তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের পুরো শাসনামলজুড়েই আলোচনায় ছিল।


বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কারাগারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ ঘোষণার পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ভূমিকার জন্য ইউন সুক ইওল আটক রয়েছেন। আর কিম দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন।


সিউল থেকে এএফপি জানায়, বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক উ ইন-সুং কিম কন হিকে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেন।


রায়ে বলা হয়, তিনি ইউনিফিকেশন চার্চ নামে একটি ‘কাল্টসদৃশ’ ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ছিল একটি শ্যানেল ব্যাগ ও গ্রাফ ব্র্যান্ডের একটি নেকলেস।


তবে শেয়ার কারসাজি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনী অর্থায়ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।


এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিল।


বিচারক বলেন, রাষ্ট্রপতির নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে কিমের ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব’ ছিল, যা তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।


তিনি বলেন, ‘কারও অবস্থান কখনোই ব্যক্তিগত লাভের উপায় হতে পারে না।’


রায়ে আরও বলা হয়, কিম তাঁর অবস্থানকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে অপব্যবহার করেছেন।


রায় ঘোষণার সময় সাবেক ফার্স্ট লেডি কালো স্যুট, সাদা মুখোশ ও চশমা পরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


গত ডিসেম্বর চূড়ান্ত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছিল, কিম ‘আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান’ করেছিলেন এবং ইউনিফিকেশন চার্চের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘ধর্ম ও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিচ্ছিন্নতা’ ক্ষুণ্ন করেছেন।


রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মিন জুং-কি বলেন, কিমের ক্ষমতার অপব্যবহারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।


অন্যদিকে, সাবেক ফার্স্ট লেডি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত মাসে দেওয়া চূড়ান্ত বক্তব্যে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘গভীরভাবে অন্যায্য’ বলে দাবি করেন।


তবে তিনি ‘তুচ্ছ একজন মানুষ হয়েও ঝামেলা সৃষ্টি করার’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।


তিনি গত ডিসেম্বরে বলেন, ‘আমার ভূমিকা ও আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথা ভাবলে স্পষ্ট হয়, আমি অনেক ভুল করেছি।’


নিজেকে প্রাণীপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধের আন্দোলনে ভূমিকার জন্য। তবে একের পর এক কেলেঙ্কারি প্রায়ই তাঁর স্বামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ছাপিয়ে গেছে।


২০২৩ সালে গোপন ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ পায়, যাতে তাঁকে ২ হাজার ২০০ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল ব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি পরে ‘ডিওর ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায় এবং ইউন সুক ইওলের ইতোমধ্যে নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


এই কেলেঙ্কারির প্রভাব পড়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে। নির্বাচনে ইউন সুক ইওলের দল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়।


কিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সমর্থিত তিনটি বিল ভেটো করেন ইউন। এর মধ্যে ডিওর ব্যাগ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত বিলও ছিল। সর্বশেষ ভেটো দেওয়া হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে।


এর এক সপ্তাহ পরই তিনি সামরিক আইন জারি করেন।


কিমের সাজা ঘোষণার কয়েক দিন আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি রাষ্ট্রপক্ষের দাবির চেয়ে আট বছর বেশি। ইউন সুক ইওলের বেসামরিক শাসন স্থগিতের সিদ্ধান্তে সহায়তার দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


এ মাসেই সামরিক আইন ঘোষণাসংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার প্রথমটিতে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে ইউন সুক ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


কিমবিরোধী তদন্তের অংশ হিসেবে ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই গোষ্ঠীর অনুসারী প্রায় এক কোটি বলে দাবি করা হয় এবং তাদের রয়েছে বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য।


এ ছাড়া একই দিনে ওই গোষ্ঠীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শীর্ষ আইনপ্রণেতা কওন সিয়ং-ডংয়ের সাজাও ঘোষণা করবেন সিউলের একটি আদালত।


সম্পর্কিত খবর