সারাদেশ

তারাগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সবজিক্ষেত, বেড়েছে দাম

ডেস্ক

শেয়ারঃ

তারাগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সবজিক্ষেত, বেড়েছে দাম- খবরের থাম্বনেইল ফটো

কালবৈশাখী ঝড় ও টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সবজি, বোরো ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির দামও বেড়ে গেছে, দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ ক্রেতারা।


উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানির কারণে সবজিক্ষেতের গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে পটোল ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ঝিঙা ৭০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


সয়ার ইউনিয়নের দামদরপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান, তিনি প্রতিবছরই পটোল চাষ করেন। এ বছর তিন বিঘা জমিতে আবাদ করলেও টানা বৃষ্টিতে গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। অনেক গাছ মারা যাচ্ছে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।


কুর্শা ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, তার করলার ক্ষেতেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। তার মতে, ফলন কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।


তারাগঞ্জ বাজারের সবজি বিক্রেতা আজমল হক জানান, আগে কৃষকদের কাছ থেকে এক ধারা (প্রায় ৫ কেজি) করলা ১০০ টাকায় কিনতে পারতেন। এখন একই পরিমাণ করলা কিনতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।


এদিকে গত দুই দিনের টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, সবজি ও ভুট্টার ক্ষেত তলিয়ে গেছে। হারিয়ার কুঠি, আলমপুর, চিককি, খিয়ার চুম্মা ও ইকোর্সালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে পানি জমে থাকায় পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। কোথাও কোথাও কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হতে শুরু করেছে, আবার অনেক জমিতে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।


স্থানীয় কৃষক অহিদুল বলেন, “কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি। এখন বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে সব নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।”


আরেক কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, “দুই দিনের বৃষ্টিতে ভুট্টা ও সবজিক্ষেত ডুবে গেছে। এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, কালবৈশাখী ও টানা বর্ষণে অনেক এলাকার সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানির কারণে গাছে পচন দেখা দিচ্ছে এবং গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।


তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, পাকা ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং ক্ষতি কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।


সম্পর্কিত খবর