আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানে আতঙ্ক, খাবার-পানি মজুত করছেন সাধারণ মানুষ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানে আতঙ্ক, খাবার-পানি মজুত করছেন সাধারণ মানুষ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের গুজবকে কেন্দ্র করে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বাসিন্দারা খাবার, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী মজুত করছেন। খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ জানুয়ারি রাত থেকেই দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত ইরানিদের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করে। ওই রাতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেক মানুষ সারারাত উদ্বেগে কাটান।


তেহরানের বাসিন্দা মিলাদ জানান, ওই রাতে তিনি কোনোভাবেই ঘুমাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি হামলার আশঙ্কায় সারারাত অপেক্ষা করেছি।” একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান ৬৮ বছর বয়সী শোহরেহ। পূর্ব তেহরানের একটি পার্কে প্রতিদিন ব্যায়াম শেষে ৩১ জানুয়ারি সকালে তিনি বলেন, তার বন্ধুরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাতেই হামলা হতে পারে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য বোমাবর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়ির জানালার কাচ স্কচটেপ বা বিশেষ উপায়ে সিল করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচার উপায় এবং জরুরি প্রস্তুতির নানা পরামর্শ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।


অনেকে অন্তত ১০ দিনের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ আগাম কিনে রাখছেন বলে জানা গেছে।


২৭ বছর বয়সী ছাত্র সোরুশ জানান, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে উত্তর ইরানের একটি শহরে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি তখনকার মতো ভয়াবহ না হলেও মানুষের কথাবার্তায় যুদ্ধের আশঙ্কা স্পষ্ট। “মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নিচ্ছে,” বলেন তিনি।


সোরুশের মতে, সাধারণ মানুষের জীবন ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পশ্চিমা শক্তির দ্বন্দ্বে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। তিনি অনলাইন বাজির একটি ওয়েবসাইটের উদাহরণ টেনে বলেন, সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সেখানে অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও হতাশাজনক করে তুলছে।


তিনি বলেন, “আমাদের জীবন ও মৃত্যুর বিষয়টি যেন বিনোদনে পরিণত হয়েছে।”


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের অভ্যন্তরে এ ধরনের গুজব ও আতঙ্ক সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সম্পর্কিত খবর