মতামত
স্বাস্থ্যখাতের বাজেট সংখ্যার বাইরে গিয়ে দেখার সময় এসেছে

গতকাল অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ৫৫তম অর্থাৎ ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছেন। এ বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১.০১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল—বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে এটি এখন পর্যন্ত দেশের স্বাস্থ্যখাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি অবশ্যই দেশের হেলথ সেক্টরের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে শুধু বাজেট বাড়লেই যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রাতারাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাবে, বিষয়টি তেমন নয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়। এখানেই শেষ নয়—এই ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যেও প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত বা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। দুর্নীতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনায় নিলে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকায়।
সুতরাং, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ কত হলো, শুধু সেটি দেখলেই হবে না; বরং দেখতে হবে, সেই বরাদ্দ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে।
বাংলাদেশে এখনো স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম, এবং মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। বর্তমানে আউট-অফ-পকেট এক্সপেন্ডিচার (OOP) প্রায় ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, একজন নাগরিক তার স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে প্রায় ৭৪ টাকা নিজেই বহন করেন। অথচ সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (Universal Health Coverage – UHC) অর্জনের জন্য এটি ৩০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০৩২ সালের মধ্যে UHC অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রীও একাধিকবার UHC অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
আশা করা যায়, সরকার স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা দেশের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও বহুমাত্রিক সমস্যায় জর্জরিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সংশোধিত বাজেটে যাতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করতে না হয়—সে লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে এই বাজেট জনগণের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (UHC) অর্জনের পথে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করবে—এটাই প্রত্যাশা।




