ক্যাম্পাস
ইবি শিক্ষার্থী মানিকের একক উদ্যোগে ১০০০ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসকে সবুজ, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মানিক রহমান। সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রচেষ্টায় তিনি ক্যাম্পাসজুড়ে এক হাজার জার্মানি ল্যাভেন্ডার (রক্তকাঞ্চন) জাতের ফুলের চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন এবং জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সূচনা করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ। এসময় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, মানিক দীর্ঘদিন ধরেই এই সবুজ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন। প্রথমদিকে যখন তিনি গাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিভিন্ন নার্সারিতে চারা গাছের খোঁজ করেন। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত চারা না থাকা এবং চড়া দামের কারণে তখন উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি শহীদ আনাস হলের সামনে থাকা রক্তকাঞ্জনের গাছ থেকে অল্প অল্প করে বীজ সংগ্রহ করেন। সেই কুঁড়ে পাওয়া বীজ শাহ আজিজুর রহমান হলের আঙ্গিনায় পাঁচ ধাপে তিনি প্রায় তিন হাজার চারা তৈরি করেছেন।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা বলেন, মানিক পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ১০০০টি রক্তকাঞ্চন গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং চারা উৎপাদনও করেছে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এটা একটা অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাদের প্রত্যেকটা মানুষকে এভাবে সবুজায়নের লক্ষ্যে আমাদের ক্যাম্পাসকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য এরকম একটি অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটা অসাধারণ একটা কাজ। আর এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং আমি বিশ্বাস করি মানিকের মাধ্যমে আমাদের আরও অনেক মানিক সামনে আসবে, এবং এই দৃষ্টান্তকে সামনে নিয়ে আমাদের এই সবুজায়নের প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে নেবে, সে প্রত্যাশা আমরা সবসময় করি।
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ চারা রোপণ করা হয়েছে। একক উদ্যোগে করা তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উদ্বোধনের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, আগামী দুই-তিন বছর পর যখন এই চারাগুলো পূর্ণাঙ্গ গাছে রূপ নিয়ে ফুল ফোটাবে, তখন পুরো ক্যাম্পাস এক দৃষ্টিনন্দন ও স্বর্গীয় রূপ ধারণ করবে।







