আন্তর্জাতিক

২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণা মাহমুদ আব্বাসের

ডেস্ক

শেয়ারঃ

২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণা মাহমুদ আব্বাসের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২০ বছর পর ফিলিস্তিনে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের বৈধতা প্রমাণের অংশ এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।


ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জারি করা এক বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি অনুযায়ী; আগামী ২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বা আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এছাড়াও ডিক্রি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের আসন সংখ্যা ১৩২টি থেকে বাড়িয়ে ২০০টি করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রার্থীদের সর্বনিম্ন বয়স ২৮ থেকে কমিয়ে ২৩ বছর করা হয়েছে।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সমস্ত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের এই অবাধ ও প্রত্যক্ষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ডিক্রিতে।


প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনে সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে। সে সময় মাহমুদ আব্বাসের দল ‘ফাতাহ’-কে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয় ইসলামপন্থি প্রতিরোধ আন্দোলন ‘হামাস’। তবে এনিয়ে দুই দলের দ্বন্দ্বের জেরে ২০০৭ সাল থেকে গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিম তীর ফাতাহ বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর পর থেকে সেখানে আর কোনো সাধারণ নির্বাচন হয়নি।


দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসনব্যবস্থা চরম গণতান্ত্রিক বৈধতার সংকটে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে তহবিল সরবরাহের শর্ত হিসেবে রাজনৈতিক সংস্কার ও নতুন নির্বাচনের জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিল।


এদিকে সম্প্রতি হামাস গাজা উপত্যকায় তাদের দীর্ঘ দুই দশকের শাসন গুটিয়ে নেওয়ার এবং একটি বেসামরিক টেকনোক্র্যাট প্যানেলের (ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা) কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হামাসের এই নমনীয় অবস্থান মাহমুদ আব্বাসকে নির্বাচন দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।


তবে দুই দশকের রাজনৈতিক ফাটল কাটিয়ে ফাতাহ ও হামাস কতটা সুশৃঙ্খলভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে দেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এখনও সংশয় রয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজা উপত্যকা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই চরম মানবিক বিপর্যয় ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভোট নেওয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল সরকার বিধিনিষেধ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। এর আগে ২০২১ সালেও ইসরায়েল জেরুজালেমে ভোট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় নির্বাচন স্থগিত করতে হয়েছিল।


সম্পর্কিত খবর