ক্যাম্পাস
জাবি শিক্ষকের নামে বাস ভাঙচুর ও চালককে আহতের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে মিটমাট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে বাস ভাঙচুর এবং চালককে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে চিকিৎসা বাবদ দুই হাজার টাকায় মিটমাট হয় ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম পলাশ সাহা, তিনি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সাভার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডেইরি গেট এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য থামানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই পাশ দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান চলে এলে তিনি হঠাৎ ব্রেক কষেন এবং মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাসে উঠে চালকের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চালক চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষক তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। এতে ভাঙা কাঁচের আঘাতে বাসচালকের মাথা কেটে রক্তপাত হয় এবং বাসে থাকা এক নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যায়।
আহত চালক ও নারী যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত নারী যাত্রীর আঙুল ভেঙে যাওয়ায় এক্স-রে করানোসহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আহত নারী যাত্রীর সাথে থাকা বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের বাসটি তখন থামানো ছিল। শিক্ষক নিজে গাড়ি ব্রেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান, এতে বাসের কোনো দোষ ছিল না। তিনি পরিচয় দেওয়ার পর আমরা তাকে শান্ত হতে বলি। কিন্তু তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং হেলমেট দিয়ে বাসের কাঁচ ভেঙে ফেলেন। এতে আমার মেয়ের মাথা ফুলে গেছে, আঙুল ভেঙে গেছে। ড্রাইভারের মাথাও ফেটে গেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক থেকে এ ধরণের আচরণ কাম্য নয়। তার আচরণে মানবতা ও সংযম থাকার কথা। কিন্তু তার মধ্যে চরম আক্রোশ দেখেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
বাস চালক আতিক চৌধুরী বলেন, "উনারা আমাকে কয়েকবার মেরছে। আমি কিছুই করিনি, তবু আমাকে ডেকে নিয়ে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আমি ভুক্তভোগী হয়েও অপরাধীর মতো দাঁড়িয়েছি। চিকিৎসার জন্য ২ হাজার টাকা দিয়েছে, কিন্তু এরপরও ছাত্ররা আমাকে পথে পথে আটকায়, হুমকি ও মারধর করে । এখানে শ্রমিক হিসেবে আমাদের কোনো সুরক্ষা নেই।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা ভুল স্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে এক বাসচালক বাসটি রাস্তার মাঝবরাবর রেখেছিল। আমি তাকে অতিক্রম করার সময় একটি চলন্ত পিকাপ থেকে নিজেকে সেভ করতে ব্রেক করলে আমি পড়ে যাই। পরে বাসে উঠে আমি ড্রাইভারকে বারবার বলেছি বাস সরাতে, কিন্তু সে শোনেনি। একসময় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। শিক্ষক হিসেবে এটা আমার করা ঠিক হয়নি। আমি আমার ভুলটা স্বীকার করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে কথা বলতেছি। সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।








