ক্যাম্পাস

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শ্রোতা বানানোর চেষ্টা’: জবিতে সেমিনারে উপস্থিতিতেই হাজিরা পাওয়ার খবরে বিতর্ক

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শ্রোতা বানানোর চেষ্টা’: জবিতে সেমিনারে উপস্থিতিতেই হাজিরা পাওয়ার খবরে বিতর্ক- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দুটি ক্লাসের পরিবর্তে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সেমিনারে উপস্থিত থাকলেই দুটি কোর্সের উপস্থিতি (অ্যাটেনডেন্স) দেওয়া হবে এবং সেমিনারের আলোচনার ওপর একটি বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টও করতে হবে।


ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) ফাহমিদা রহমান মিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় এ তথ্য জানান। পরে সেই ভয়েস বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভয়েস বার্তায় বলা হয়, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ তাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, আগামী বুধবার সকাল ১০টায় হাসান স্যারের এবং সকাল সাড়ে ১১টায় নাছির স্যারের নির্ধারিত ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে উপস্থিত থাকতে হবে।


ওই সময় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সরকারের একজন উপদেষ্টা, ঢাকা অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


ভয়েস বার্তায় আরও বলা হয়, অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষক হাসান স্যারের সঙ্গে কথা বলে দুটি কোর্সের উপস্থিতি সেমিনারেই নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি সেমিনারের আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের একটি অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হবে। এজন্য সবাইকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়।


এছাড়া বার্তায় উল্লেখ করা হয়, এর আগেও একই ধরনের একটি সেমিনারের সময় নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামে উপস্থিত থেকে অ্যাটেনডেন্স দিতে হয়েছিল।


এ ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, “আমাদের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক অনুষ্ঠানে যেতে বলা এবং সেখানে উপস্থিত না হলে অ্যাটেনডেন্স কাটা বা নম্বর কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করা অত্যন্ত অন্যায্য। রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থীদের শ্রোতা হিসেবে ব্যবহার করা কোনো সুস্থ একাডেমিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অ্যাটেনডেন্স নেওয়া এবং অন্য শিক্ষকের ক্লাস বাতিলের অভিযোগ অস্বীকার করেন।


তিনি বলেন, “হাসান স্যারের ক্লাস তো আমি নিতে পারব না, সেটি বলারও সুযোগ নেই। ওই সময়ে আমার নিজের একটি ক্লাস ছিল। কিন্তু আমি সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে থাকব। তাই ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারব না। শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাস থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত না হয়, সে কারণেই তাদের সেমিনারে অংশ নিতে বলেছি। এটি একটি গবেষণাধর্মী আয়োজন। আমি নিজেও এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করি এবং ক্লাসে পড়াই।”


সম্পর্কিত খবর