ক্যাম্পাস

নির্বাচন পরবর্তী নানা সহিংসতায় জাকসুর বিবৃতি, একপাক্ষিকতার অভিযোগ ভিপির

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

নির্বাচন পরবর্তী নানা সহিংসতায় জাকসুর বিবৃতি, একপাক্ষিকতার অভিযোগ ভিপির- খবরের থাম্বনেইল ফটো

নির্বাচন পরবর্তী দেশে নানা সহিংসতার কথা তুলে ১৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত বিবৃতির পক্ষে ভিপির মত ছিল না এমনটি দাবি করে বিবৃতিটিকে একপাক্ষিক বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।


রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফয়সাল হোসেন সেই বিবৃতি ফেসবুকে শেয়ার করে,-"জাকসুর জিএস প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। কিন্তু ভিপির স্বাক্ষরও নাই। এর আইন গত বৈধতা কি!!?" -এই ক্যাপশনে একটি পোস্ট করেন। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিবৃতিটি একপাক্ষিক ছিল বলে দাবি করেন।


সেখানে তিনি বলেন, "গতকালের বিবৃতির পক্ষে আমি ছিলাম না। জিএস একপাক্ষিক ভাবে গতকালের বিবৃতি দিয়েছে। কোন কারনে ভিপি উপস্থিত না থাকলে জিএসের সাইনে ইমারজেন্সি মুহূর্তে বিবৃতি দেওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ভিপির কনসার্ন নেওয়া জরুরি। কিন্তু গতকালের ঘটনা নিয়ে তারা এক পাক্ষিক বিবৃতি দিয়েছে।" (বিবৃতির পরের দিনের মন্তব্য এটি)


এর আগে একই দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি জাকসু থেকে বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়। জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রংপুরে সাতটি, পঞ্চগড়ে ৩০টির বেশি এবং কুড়িগ্রামে অন্তত চারটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।


এ ছাড়া ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, জামায়াত, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক ও পোলিং এজেন্টদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।


নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে তার সন্তানদের সামনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। আরো বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী এসব ঘটনা আমাদের পুরোনো রাজনৈতিক চর্চার কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় বসার আগেই এমন সহিংসতার মাত্রা আমরা হুমকি হিসেবে দেখছি।


তবে এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেননি জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু।


এ বিষয়ে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু গণমাধ্যমকে বলেন, "নোয়াখালির ভিক্টিমকে ঘিরে যে ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা এখনো মেডিকেল রিপোর্টের মাধ্যমে সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন বা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে আমি একমত নই।"


তিনি আরো বলেন, "প্রমাণ-ভিত্তিক অবস্থান ছাড়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এমন সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন নয়। ভবিষ্যতে জাকসুর যেকোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান গ্রহণের আগে অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে ছাত্রসংসদের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ থাকে।


এ বিষয়ে জাকসুর জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "ভিপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তবে সমর্থন দেননি। জাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থে জাকসু সবসময় সোচ্চার থাকবে; কোথাও পক্ষপাত থাকলে শিক্ষার্থীরাই তা তুলে ধরবে। এখানে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগটির অস্পষ্ট।"


মাজহারুল ইসলাম আরও জানান, "১৫ ফেব্রুয়ারির বিবৃতিতে— নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উদ্বেগ, নোয়াখালির ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ (তবে কোনো চূড়ান্ত স্টেটমেন্ট নয়) এবং এক সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার অভিযোগে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে পুরোনো সহিংসতার রাজনীতিতে না ফেরার আহ্বান জানানো হয়।"


বিষয়ে নিয়ে জাকসুর অন্যান্য সদস্যদের আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে যোগ দিয়ে (বিএনপি) সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামীতে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যাক্ত করেন।


সম্পর্কিত খবর