ক্যাম্পাস

জাবিতে মশার উপদ্রবে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

জাবিতে মশার উপদ্রবে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মাত্রাতিরিক্ত মশার উপদ্রবে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা। দিনের বেলা কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যা থেকে আবাসিক হলসহ সবখানেই বাড়তে থাকে মশার উৎপাত। ফলে পড়াশোনা থেকে শুরু দৈনন্দিন প্রায় সকল কাজই বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ইতোমধ্যে মশার কামড়ে কয়েকজন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।


হলগুলোর আশপাশের এলাকাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের ড্রেন, ডোবা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করা এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকায় মশার প্রকোপ বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মশার উপদ্রপ ঠেকাতে প্রশাসনে কার্যকরি পদক্ষেপও তেমন দেখা যায়নি। এতে দিনের পর দিন মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।


খোলা জায়গাতেও মশার আধিক্য কম নয়। কোথাও দাঁড়িয়ে দুই-চার মিনিট কথা বলার সুযোগ নেই- অবস্থা। সম্প্রতি কয়েকটি আবাসিক হলে মশক নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থী রাহাতিল আশেকীন বলেন, "দিনের বেলা রুমের মধ্যে মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। সন্ধ্যা থেকে মশা উপদ্রব অত্যন্ত বেশি শুরু হয়। মাঝে মাঝে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুপুর অথবা সকালে মশা নিধনের জন্য স্প্রে করা হয়, তবে এতে কোন লাভ হচ্ছে বলে মনেমহয় না। সঠিক সময়ে মশা নিধনের কাজ না করলে উপদ্রব আরো বেড়ে যাবে।"


এ বিষয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং মশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসা ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসের আশেপাশে প্রায় ১৬ প্রজাতি মশা পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন কিউলেক্স কুইনকুই ফেসসিটাস মশার উপদ্রব বেশি। এই প্রজাতির মশার কামড়ে ‘ফাইলেরিয়াসিস’ ভয়াবহ গোদ রোগের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার ঘনত্ব এসব এলাকায় কম।তবে আগামী ১৫ দিন বা একমাস পর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে মশার ঘনত্ব ও উপদ্রব আরো বাড়বে।"


মশার উপদ্রব বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, "জানুয়ারির শেষের দিকে মশার ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায়। কারণ শীতের পর এসময় তাপমাত্রা হালকা বাড়তে শুরু করলে মশার ডিম পাড়ার হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি মশার লার্ভাগুলোর বৃদ্ধিও অনেকটা দ্রুত হয়। জাহাঙ্গীরনগরেও সেটিই হয়েছে।"


বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাশেম বলেন, "প্রথম ধাপ শেষে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দুজন কর্মী নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হল কর্তৃপক্ষ (মশার উপদ্রবের বিষয়টি) প্রয়োজন অনুযায়ী মশার ওষুধ, কেরোসিন ও অকটেন সরবরাহ করে আমাদের জানালে আমরা ফগিং মেশিন দিয়ে স্প্রে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে আসছি।"


 এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা বলেন, "হল প্রাধ্যক্ষদের মিটিং এ বিষয়ে কথা বলেছি। তাদের বলা হয়েছে, হলসংশ্লিষ্ট মালিদের দিয়ে হলের আশপাশে যত ঝোপঝাড় রয়েছে তা যেন কেটে ফেলা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে মশা নিধনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।"


সম্পর্কিত খবর