আন্তর্জাতিক
কালো লেদার ট্রেঞ্চ কোট পরে সামরিক কুচকাওয়াজে কিম ও কন্যা জু আয়ে

কিম জং–উনের কিশোরী মেয়ে জু আয়ে আবারও জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন। বুধবার রাতে পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক কুচকাওয়াজে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখা যায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
কুচকাওয়াজটি শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অভ কোরিয়া–এর নবম কংগ্রেসের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। এটি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত। বিশ্লেষকেরা কংগ্রেস–পরবর্তী বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিকতায় নীতিগত কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জু আয়ে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে কুচকাওয়াজ উপভোগ করছেন এবং তালি দিচ্ছেন। বাবা ও মেয়ে—উভয়েই কালো রঙের লেদার ট্রেঞ্চ কোট পরেছিলেন। অন্য একটি ছবিতে তাদের যুদ্ধবিমানের মহড়া পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
কেসিএনএ জু আয়ের নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা উল্লেখ না করলেও, তার নিয়মিত উপস্থিতি নতুন করে উত্তরাধিকার–সংক্রান্ত জল্পনাকে উসকে দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবারের বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে তার দৃশ্যমানতা রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) চলতি মাসের শুরুতে আইনপ্রণেতাদের জানায়, জু আয়ে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন—এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংস্থাটির মতে, এতে বোঝা যায় তিনি ‘অভ্যন্তরীণভাবে উত্তরসূরি হওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন।
২০২২ সালের শেষ দিকে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় প্রথমবার বাবার সঙ্গে জনসমক্ষে আসেন জু আয়ে। এরপর থেকে তাকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক অনুষ্ঠান ও জাতীয় উদ্যাপনে দেখা গেছে। শুরুতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে কিমের ‘প্রিয়’ কন্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
উত্তর কোরিয়া কখনো জু আয়ের বয়স আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে ধারণা করা হয়, তার জন্ম ২০১০–এর দশকের শুরুর দিকে। দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের মতে, তিনি কিম জং–উন ও তার স্ত্রী রি সল জুর সন্তান।
২০১৩ সালে সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডেনিস রোডম্যান পিয়ংইয়ং সফরের পর প্রথমবার জু আয়ের অস্তিত্বের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতার ‘জু আয়ে’ নামের এক কন্যাশিশুকে তিনি কোলে নিয়েছিলেন।
কিম জং–উনের অন্যান্য সন্তানের বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ হয়নি। তবে জু আয়ের ক্রমবর্ধমান জনসম্মুখ উপস্থিতি তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।








