ক্যাম্পাস

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে জবিতে সম্প্রীতির ইফতার

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে জবিতে সম্প্রীতির ইফতার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রমজান উপলক্ষে প্রতিদিনই বসছে সমবেত ইফতারের আয়োজন। বিকেল গড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের নিচে, শহীদ মিনার চত্বর, শান্ত চত্বর, কাঁঠালতলা ও বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১ মার্চ ) সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট দলে বসে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কেউ ফল কাটছেন, কেউ শরবত তৈরি করছেন, আবার কেউ ছোলা-মুড়ি মাখাচ্ছেন। ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেই ক্যাম্পাসে একসঙ্গে ইফতার করছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল ও আশপাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, পরিবার থেকে দূরে থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করাই তাদের কাছে স্বস্তির। তারা বাইরে থেকে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, বিভিন্ন ফল ও শরবত এনে একসঙ্গে বসে ইফতার করছেন।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল-এ থাকা শিক্ষার্থী আদিবা নাওমি বলেন, “পরিবার থেকে দূরে থাকি। একসঙ্গে ইফতার করতে না পারলে খারাপ লাগে। তবে এখানে ছোট-বড় সবাই মিলে ইফতার করি, এটা অনেক প্রশান্তির। এক ধরনের সম্প্রীতিও তৈরি হয়।”

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও পৃথকভাবে ইফতারের আয়োজন করছে। সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “পবিত্র রমজান উপলক্ষে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এ আয়োজন রমজানজুড়ে চলমান থাকবে।”

ইফতারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী পায়েল সরকার বলেন, “সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করাটা আমাদের কাছে আনন্দের। মুসলিম বন্ধুরা যেমন আমাদের উৎসবে অংশ নেয়, আমরাও তাদের সঙ্গে রমজানের এই সময়টা ভাগাভাগি করতে এসেছি।”

মাত্র সাড়ে সাত একরের ক্যাম্পাসে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিদিনের এ আয়োজন তৈরি করছে প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, রমজানজুড়ে এমন সমবেত ইফতার তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করছে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, “সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধন তৈরি হচ্ছে। একসঙ্গে খাওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে।”


সম্পর্কিত খবর