জাতীয়

পর্যটক বরণে প্রস্তুত পাহাড়ের রানী খাগড়াছড়ি

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

পর্যটক বরণে প্রস্তুত পাহাড়ের রানী খাগড়াছড়ি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ঈদের টানা ছুটি মানেই মন একটু অন্যরকম হয়ে ওঠে। ব্যস্ততা ভুলে কাছের মানুষদের সঙ্গে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হয় সবার। তবে সময় এবং দূরত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই দূরের গন্তব্য এড়িয়ে চলেন। পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে তাদের জন্য খাগড়াছড়ি হতে পারে একদম পারফেক্ট ঈদ ভ্রমণ গন্তব্য।


খাগড়াছড়িতে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র, যা প্রতিনিয়ত নতুন সাজে প্রস্তুত হচ্ছে। এবার ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে এখানে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন হবে। এ প্রত্যাশায় মোটেল, হোটেল, ঝুলন্ত সেতু এবং পার্ক নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।


জেলার অন্যতম আকর্ষণ আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ ফুট ওপরে অবস্থিত। এখানে দেখার মতো রয়েছে স্বর্ণের আদলে তোরণ, ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেনিং, গুহা, ঝুলন্ত সেতু, নন্দনকানন, খুমপুই রেস্টহাউজ, জেলা পরিষদ, হর্টিকালচার পার্ক, মায়ানি লেক, দেবতা পুকুর, রিসাং ঝরনা এবং আরও অনেক বিনোদনের স্পট। পাহাড়-ঝরনা ও নীরবতার মেলবন্ধনে সাজানো এই পার্বত্য জেলা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে প্রস্তুত।


পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ঈদের দিন থেকে দুই স্তরের টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে।


গত বুধবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের একটি ঝুলন্ত সেতু নতুন রঙে রঙ করা হয়েছে এবং পার্কের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।


জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, “ঈদের ছুটিতে সারাদেশ থেকে পর্যটকের আগমন হবে। তাই পার্কের আকর্ষণ বাড়াতে চারপাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার করেছি। এছাড়াও পার্কের সামনে বড় আকারে বার্মিজ মার্কেট তৈরি করা হচ্ছে। ঈদের আগেই কাজ শেষ হবে।”


আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, “পর্যটকরা যাতে সুন্দর পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারে, তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধোয়া-মোছা করে পার্ক সাজানো হয়েছে।”


পর্যটক মোটেল করপোরেশন ইউনিটের ইনচার্জ ক্যাচিং মারমা জানান, “ঈদে মোটেলের ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়েছে। রুমগুলো সংস্কার করা হয়েছে, তাই পর্যটকদের সেবা দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বেশি সংখ্যক পর্যটক বাইকে করে আসেন। যদি তেলের সংকট থাকে, তবে এর প্রভাব পড়তে পারে।”


খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক জাহিদুল কবির (পিপিএম) বলেন, “ঈদের দিন থেকে পর্যটকের চাপ তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও জেলা পরিষদ পার্কে সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশ থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন স্পটে ঘুরার জন্য মোবাইল টিম থাকবে। পর্যটকরা যদি কোনো সমস্যা জানান, আমরা জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”


জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”


সম্পর্কিত খবর