ক্যাম্পাস

সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়, গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা: রাবির সাবেক ভিসি

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়, গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা: রাবির সাবেক ভিসি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যখনই ‘পবিত্র সংবিধান’ নিয়ে কথা বলা হবে, তখনই বুঝতে হবে সেখানে ধান্দাবাজি আছে। সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়; গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজনে সংবিধানে শতবার পরিবর্তন আসতে পারে, তবে প্রতিটি পরিবর্তন হতে হবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে—এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।


শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


অধ্যাপক নকীব বলেন, শতকরা প্রায় সত্তর ভাগ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কোনোভাবেই এই সত্য মুছে ফেলা যাবে না। দেশের মানুষের অভিপ্রায়ই সংবিধানের ভিত্তি—এটাই শেষ কথা। এই অভিপ্রায় অস্বীকার করার অর্থ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া।


তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা করেছে। তাদের তা করতেই হয়েছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার ছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফল। সেই গণঅভ্যুত্থানের সব আকাঙ্ক্ষা তাদের ধারণ করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোও প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখন আর কথা পাল্টানোর সুযোগ নেই।


সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিও যুক্ত করতে হবে। সংসদে তৃতীয় শ্রেণির রাজনীতিবিদদের আধিক্য রয়েছে। শুধু তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যেকোনো বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের মালিক আপামর মানুষের মতামত নিতে হবে। তাই গণভোটের ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত করা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, যখনই ‘পবিত্র সংবিধান’ নিয়ে কথা বলা হয়, তখনই বুঝতে হবে সেখানে ধান্দাবাজি আছে। সংবিধানের কোনো লাইনই পবিত্র নয়; গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষের আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজনে শতবার সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে, তবে তা অবশ্যই দেশ ও জনগণের স্বার্থে হতে হবে।


দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সংবিধানকে মেলানো প্রতারণা ও ছোটলোকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বিষয়টি মোটেই কঠিন নয়। বুদ্ধি-বিবেক ঠিক থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের স্বার্থেই এসব নিয়ে ‘তেনা প্যাঁচানো’ বন্ধ করা উচিত। পাগলও নাকি নিজের ভালো বোঝে—কিন্তু সংসদের কিছু ধান্দাবাজকে দেখলে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। গণমানুষের রায় মেনে নেওয়াই সবার জন্য কল্যাণকর।


সম্পর্কিত খবর