ক্যাম্পাস

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জবি হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে, ব্যবস্থা নিবে হল কর্তৃপক্ষ

জবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জবি হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে, ব্যবস্থা নিবে হল কর্তৃপক্ষ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক সিটে ওঠানোর অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হল সংসদের ভিপি জান্নাতুল উম্মে তারিন অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী তুলছেন।


শুক্রবার (৩ এপ্রিল) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা এর স্বাক্ষরিত এক হল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় হল শিক্ষার্থী সংসদের সাথে হল প্রভোস্টের মিটিং এর সময় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত। হল কর্তৃপক্ষ যদি এ ঘটনায় জড়িতই থাকতো তাহলে ব্যাপারটি সবার সামনে ঘটতো না। নিয়ম অনুযায়ী হল কর্তৃপক্ষ এর ব্যবস্থা নেবে।


এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের নির্দেশে হল ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির মাধ্যমে এক শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি হল সংসদের একটি মিটিং চলাকালে সামনে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এম. এইচ. বি. সুমন একটি গ্রুপে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ছাত্রী হলে নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে সিট দেওয়া হচ্ছে শুনলাম। যদি তা হয়, সমঝোতাকারী হল প্রভোস্টের মুখে চুনকালি মাখিয়ে সম্মান করা হোক।


এ বিষয়ে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল এর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, হল সংসদ যা বলেছে তা সত্য। তবে আমার নামে যা রটানো হল তার সুষ্ঠু বিচার চাই। একজন শিক্ষার্থীর ভাষায় কি করে করে এমন হতে পারে। ঐ মেয়েকে ডেকে জবানবন্দি নিতে হবে। জবানবন্দিতে সব বেরিয়ে আসবে।


হল ভিপি পোস্টে বলা হয়, ‘হল সংসদের মিটিং এর সময় একজন মেয়ে হুট করে প্রভোস্ট ম্যামের রুমে ঢুকে। তারপর প্রভোস্ট ম্যামকে বললো, "ম্যাম আমার সিট দেন। "তারপর ম্যাম বললো, তুমি কি হলে থাকো? তখন সে বলে, ৪ তলার ৪০৪ নম্বর রুম থেকে আসছি, আমি গতকালকে থেকেই টুম্পা আপুর (ছাত্রদলের হল সভাপতি এবং সাহিত্য সম্পাদক, হল সংসদ) রুমে থাকছি, আরেফিন ভাই (ছাত্রদলের সদস্য সচিব) আমাকে হলে থাকার জন্য বলেছেন। এখন রিমি আপু ( ছাত্রদলের হল সেক্রেটারি) আমাকে আপনার সাথে দেখা করে সিট কনফার্ম করতে বলেছে। তারপর ম্যাম বলছে, "এভাবে রেফারেন্সে তো হলে সিট হয়না।"


জান্নাতুল উম্মে তারিন তার পোস্টে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে মেসে অনিরাপদ পরিবেশে থাকা অনেক শিক্ষার্থী থাকার জায়গা না পেলেও এভাবে প্রভাব খাটিয়ে সিট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে ছাত্রী হলের ছাত্রদল সভাপতি ফারজানা টুম্পার সাথে অনেকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


ছাত্রী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা আরোও বলেন, যারা এই মেয়েকে তুলেছে প্রশাসনকে না জানিয়ে তাদের শৃঙ্খলা কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে। শৃঙ্খলা কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।


সম্পর্কিত খবর