ক্যাম্পাস

প্রভাষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক দাখিল ও আলীম শর্ত বাতিলের দাবিতে রাবিতে ফের মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

প্রভাষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক দাখিল ও আলীম শর্ত বাতিলের দাবিতে রাবিতে ফের মানববন্ধন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমওপি নীতিমালায় স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রভাষক নিয়োগে দাখিল ও আলীম বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এনটিআরসির কাছে আরোপিত শর্ত বাতিলের দাবিতে জোরালো আবেদন জানান।


আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলেন, "আমরা এখানে ৫ বছর আরবীতে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি, তারপরও কেন আমরা শুধুমাত্র অনার্স ডিগ্রি দিয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করতে পারবো না? ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরবী বিভাগে প্রভাষক পদে আসতে পারছে, কিন্তু আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজে প্রভাষক পদে আবেদন করতে পারবে না। আমরা অতিদ্রুত এই বৈষম্যমূলক পদ্ধতির অবসান চাই। এছাড়াও প্রভাষক পদে দাখিল ও আলীম শর্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।"


২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হানজালা বলেন, "আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি এনটিআরসির প্রণীত বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক নীতিমালার প্রতিবাদ জানাতে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত এই নীতিমালার মাধ্যমে আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় আরবীতে অনার্স করলে প্রভাষক ও সহকারী মৌলভী পদে আবেদন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন নীতিমালায় দাখিল ও আলীম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দাখিল-আলিম ছাড়াও শিক্ষার্থীরা আরবী বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অবদান রাখার জন্য ভর্তি হচ্ছে। পড়াশোনা শেষে তারা দেখতে পাচ্ছে তাদের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা স্পষ্ট বৈষম্য।"


তিনি দাবি জানান, "আরবী বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের একমাত্র শর্ত হওয়া উচিত আরবীতে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি। দাখিল-আলিমের বৈষম্যমূলক শর্ত আমরা মানি না এবং এই নীতিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এছাড়াও ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরবী বিভাগের প্রভাষক পদে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। যদি এ সুযোগ রাখা হয়, তবে তা উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।"


আরবী বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, "আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এনটিআরসির নীতিমালা অবিলম্বে পরিবর্তন করে পূর্বের ন্যায় আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের সকল ক্ষেত্রে প্রভাষক হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"


তিনি আরও বলেন, "এছাড়াও এবতেদায়ি ও দাখিল পর্যায়ে মৌলভী পদে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সকল ক্ষেত্রে আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে। যারা পরিকল্পিতভাবে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে বোর্ড সদস্য পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরনের বৈষম্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের এভাবে বঞ্চিত করা ন্যায্য হতে পারে না।"


ড. মনিরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, "এনটিআরসিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সহকারী মৌলভী ও প্রভাষক পদে মাদ্রাসার সকল ক্যাটাগরিতে আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি আমাদের এই ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন।"


উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে মানববন্ধন করে আরবী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


সম্পর্কিত খবর