ক্যাম্পাস
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুয়েটে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। শতকণ্ঠে নববর্ষের গান, বর্ণাঢ্য র্যালি, খেলাধুলা, সার্কাস, ম্যাজিক শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজনে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
সকালে উপাচার্য ড. মুহাম্মাদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, কাগজের মুখোশ, কৃষি উপকরণ, ঢাক-ঢোলসহ গ্রামীণ জীবনের নানা উপাদান স্থান পায়, যা র্যালিটিকে অনন্য মাত্রা দেয়। দিনজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী, উপপরিচালক মো. মাহমুদুল আলম, সহকারী পরিচালক রাজন কুমার রাহা ও শাহ মুহাম্মাদ আজমাতউল্লাহ। এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খান জাহান আলী হলের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার, ফজলুল হক হলের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আরিফুজ্জামান, শহীদ স্মৃতি হলের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ, অমর একুশে হলের অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ, লালন শাহ হলের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান এবং রোকেয়া হলের অধ্যাপক ড. রাজিয়া খাতুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুপুর-পরবর্তী আয়োজনসমূহ। এ সময় উপাচার্য আবাসিক হলসমূহের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আবাসিক হলগুলোর মধ্যে বৈশাখী শোভাযাত্রা, স্ট্রিট পেইন্টিং এবং স্টল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
স্ট্রিট পেইন্টিং প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে লালন শাহ হল, রোকেয়া হল এবং খান জাহান আলী হল। স্টল প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় যথাক্রমে শহীদ স্মৃতি হল, রোকেয়া হল এবং ফজলুল হক হল। অন্যদিকে, বৈশাখী শোভাযাত্রা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ফজলুল হক হল, রোকেয়া হল এবং লালন শাহ হল। পরে উপাচার্য ও হল প্রভোস্টগণ বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এছাড়াও আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ছাত্র-শিক্ষক দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকবৃন্দের হাড়ি ভাঙা খেলা, যা উপস্থিত সবার মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করে।
বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এতে কুয়েটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশনায় অংশ নেয়। পাশাপাশি ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অসংখ্য স্টলের আয়োজন করা হয়।
সবকিছু মিলিয়ে কুয়েটে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক প্রাণবন্ত ও বর্ণিল বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।







