ক্যাম্পাস

জাবির আবাসিক হলে মাদকসহ নারী শিক্ষার্থী আটক, তদন্ত কমিটি গঠন

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

জাবির আবাসিক হলে মাদকসহ নারী শিক্ষার্থী আটক, তদন্ত কমিটি গঠন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেসা হলে মাদক সেবনের অভিযোগে এক নারী শিক্ষার্থীকে আটক করেছে হল প্রশাসন ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা। এ ঘটনা তদন্ত করার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।


শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে হলটির ১১৬ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। এ ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


আটক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) ছাত্রী। তিনি বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।


হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যে কক্ষে অভিযান চালানো হয় সেটি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযুক্ত ছাত্রী ওই কক্ষে অবস্থান করে মাদক সেবন করছিলেন।


নবাব ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. সুলতানা আক্তার কক্ষে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কক্ষ থেকে গাঁজা, সিগারেটসহ নেশাজাতীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


ঘটনার বর্ণনায় হল সংসদের সেক্রেটারি সুমাইয়া খানম নিশি জানান, ১১৬ নম্বর কক্ষে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ এমন তথ্য পেয়ে প্রথমে একজন কর্মচারীকে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজে গিয়ে ধূমপানের বিষয়টি নিশ্চিত হন। তবে শুরুতে কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে হল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দরজা খোলা হলে ভেতরে নেশাজাতীয় দ্রব্যের আলামত পাওয়া যায়। পরে সকলের সহযোগিতায় গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।


অভিযানের পর বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা তুজ যোহরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন হল সংসদের প্রতিনিধিরা।


তবে মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে ফাতেমা তুজ যোহরা বলেন, ওই শিক্ষার্থী কেবল সিগারেট সেবন করছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি মানসিক সমস্যাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং একপর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।


তিনি আরও বলেন, এ কারণে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। পরে তার ইচ্ছায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।


নবাব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষ থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয় এবং এক শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কক্ষটিতে তালা দেওয়া হয়েছে।


এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. সুলতানা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রভোস্ট।


অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনজুর ইলাহী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এবং তাকে সহায়তাকারী হল সংসদের জিএস ফাতেমা—দুজনই এই হলের আবাসিক হলেও বর্তমানে তারা নিয়মিত হলে অবস্থান করেন না। তারা ইসলামনগর বা আমবাগানে নিজেদের বাসায় থাকেন বলে জানা গেছে।


সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


সম্পর্কিত খবর