ক্যাম্পাস
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান রাবি ছাত্রদল সভাপতির

সিটি কলেজে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী এ আহ্বান করেন।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির এতদিন ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে লুকিয়ে ছিল, এখন তারা গুপ্তভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। বাংলাদেশে আবারও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সময়ের দাবি। আবাসিক হল, লাইব্রেরি ও চায়ের স্টলে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কিংবা বাংলাদেশপন্থী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর নির্মমভাবে হামলা করা হয়, তাহলে ছাত্রশিবিরের সেই বিষদাঁত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল উপড়ে পাকিস্তানে ফেলে দিয়ে আসবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
মিছিলে “লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই”, “জামায়াত-শিবির যেখানে, লড়াই হবে সেখানে”, “জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়”, “শিবিরের সন্ত্রাস, রুখে দাও, রুখে দাও”, “জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই কর”—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হকের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা হলফ করে বলতে পারি—বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রমাণ হয়েছিল, কোনো স্বৈরাচারী সরকার এখানে টিকতে পারেনি। আমাদের বড়ই ভুল হয়েছিল—একাত্তরের যুদ্ধে অপরাধীদের বিচার করা হলেও তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের পেটোয়া ছাত্র সংগঠন শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, জামায়াত-শিবির কখনোই ৭১ নিয়ে কথা বলতে পারবে না। আজ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্য হত্যার বিচার হতো, তাহলে জামায়াত-শিবির কখনোই ‘রগকাটা’ রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে পারত না। রাবির এই মাটি থেকে তাদের অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ করা হবে। আপনারা যদি ধর্ম প্রচার করতে চান, তাহলে কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে—ক্লাসরুমে ধর্ম প্রচার করবেন না, ফেসবুকে ধর্মের দোহাই দেবেন না।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবির যেভাবে দখল করে আছে, তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কলেজে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা প্রতিবাদ জানাই। গুপ্ত লেখায় শিবিরের ভাইরা ক্ষিপ্ত হয়েছে—বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানে কারা গুপ্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা বলতে চাই, আপনারা যদি অতি দ্রুত সুশৃঙ্খলভাবে রাজনীতিতে ফিরে না আসেন, তাহলে গুপ্ত রাজনীতি ও মববাজির রাজনীতি ছাত্রদল আর সহ্য করবে না।
এসময় বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দীন আবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এশাসহ বিভিন্ন হল ও অনুষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।







