ক্যাম্পাস
ঢাবিতে শাপলা ও শাহবাগ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার উদ্যােগে 'শাপলা ও শাহবাগ মুসলিম রাজনৈতিকতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের দ্বৈরথ' শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ৫টি দাবি তুলে ধরেন। মঙ্গলবার (৫ই মে) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক।
আলোচনাসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী সরকার একটা নারী উন্নয়ন নীতিমালা করে।
এখানে কয়েকটা জিনিস ছিলো যা ইসলামের সাথে কন্ট্রাডিক্ট (বিরোধিতা) করে। হেফাজত ইসলাম সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এসময় বিভিন্ন মহিলা পরিষদ সংগঠন থেকেও পাল্টা জবাব দেওযা হয়। তখন উলামায়ে-কেরামরা নারী উন্নয়নের নীতিমালায় তাদের দ্বিমতের বিষয়ে ১৩টি দাবি তুলে আনে।
ফুয়াদ বলেন, যেই ভাষাগুলো আমরা শাহবাগে শুনেছিলাম, যেমন নির্মূল, নিশ্চিহ্ন সেগুলো হেফাজতের উলামায়ে-কেরামদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। মহিলা পরিষদ থেকে এসব ভাষা তখন ব্যবহার করা হয়েছিল। শাহবাগ থেকেও হুমকি দেয়া হচ্ছিলো হুজুরদেরকে দেখে নেওয়া হবে। এমনকি এমন গণহত্যার পরেও তখন কারো কথা বলার সুযোগ ছিলো না।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ডিমান্ড করে সবাই কথা বলতে পারবে। পিলখানা গণহত্যা হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিলো। পুরো বিষয়টা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। চেতনা ব্যবসা করতে করতে আমাদের স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়েছিলো ফ্যাসিস্ট সরকার।
সোচ্চার-এর প্রেসিডেন্ট ড. শিব্বির আহমদ বলেন, একটা রাষ্ট্র কিভাবে তার নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা তাদের হত্যা করে আবার বিচার না করে তাদের দায়ি করে আবার সকালে সব ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলে, এইটা আসলে কিভাবে করে! এগুলো করার জন্য যা যা করা দরকার তা তারা (ফ্যাসিবাদী) আগেই তৈরি করে রেখেছিল। মানবাধিকার চর্চা করতে গিয়ে সেদিন রাষ্ট্র কর্তৃক সহিংসতার স্বীকার হয়। রাষ্ট্র এখানে নাগরিককে নাগরিক হিসেবে আইডিন্টিফাই করতেছে না, সে নাগরিককে ট্রিট করছে শত্রু-মিত্র হিসেবে৷
ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কথা স্মরণ করে শিব্বির বলেন, এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হাতে আমার এক বন্ধু এফ রহমান হলের আবু বকর খুন হয়েছিলো। কিন্তু ভয়ের কারণে কেউ কোনো আন্দোলন করতে পারিনি। শাপলা চত্বর ছিলো তার একটা ডেমোস্ট্রেশন। ঢাকা শহরে এতো বড়ো জনসমাবেশ আর হয় নি। এই সমাবেশ রাষ্ট্র সহিংসতা দিয়ে কন্ট্রোল করেছে। এইটা শুধু শাপলা চত্বর না মদি বিরোধী আন্দোলনেও এমন হত্যা হয়েছে। রাষ্ট্র বলতেছে এগুলো জাস্টিফাইড এগুলো করা যাবে, তাদের দোষে মারা গেছে। কিন্তু মানবিকার অনুযায়ী যেকোনো মানুষ সভা-সমাবেশ করতে পারবে।
তিনি বলেন, গণহত্যায় মিডিয়া সরকারের এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করেছিলো। ফ্যাসিবাদী সরকার বলেছে তারা মব নিয়ন্ত্রণ করেছে, মিডিয়া তাদের প্রশ্ন করেছে কেনো আরো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি।
শাপলায় খুনের বিষয়ে এখন কথা হচ্ছে ভবিষ্যতেও হবে নাহলে এমন হত্যাকান্ড আবার হতে পারে। শাপলা গণহত্যার পরে ফ্যাসিবাদী সরকার কওমী মাদ্রাসার হুজুরদেরকে নিয়ে টর্চার করেছে আবার অন্য কয়েকজনকে গিয়ে বুঝাচ্ছে যে সরকার তার ভালো চাচ্ছে। টর্চার সেল থেকে বের হয়ে তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে, কি পরিমাণ টর্চার করলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তজার্তিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই পরবর্তী নতুন সরকার আসার পরেও আমরা আজ পর্যন্ত শাহবাগের বিচার করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল সবাই এই শাহবাগী শক্তির ভিক্টিম। বিভিন্ন সময়ে তারা আল্লাহ-রাসুল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে।
সাদিক বলেন, শাহবাগকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও রাষ্ট্র একসাথে কাজ করেছিলো। শাহবাগের এই শক্তি নির্মূল করার জন্য আমাদের দেশের সকলে শাপলায় একত্রিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের দমনের জন্য পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কাজে লাগিয়েছিলো। সেইদিন ৫-৬ মে সারাদেশে মানুষ কান্না করেছিলো। আমরা নিহতের সংখ্যা এখনো পুরোপুরি আইডেন্টিফাই করতে পারি নি।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের বারবার স্মরণ করা দরকার। তাদের অবদানের কারণে আজকে এই শক্তি থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। তবে এই শক্তি আবারো ফিরে আসতে চাচ্ছে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এজন্য আমাদের শত্রু-মিত্র ভালোভাবে চিনতে হবে।
এসময় সাদিক কায়েম সরকারের কাছে ৫টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো:
(১) শাপলা গণহত্যার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন ও বিচার করতে হবে এবং শেখ হাসিনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ সকলকে বিচারের নিশ্চিত করতে হবে।
(২) রাষ্ট্রীয়ভাবে এই শাপলা গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
(৩) শাপলা গণহত্যায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ।
(৪) গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের জন্য একটি পূর্ণ রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
(৫) মানবাধিকার সংগঠন ও ভিক্টিমদের পরিবারের সাথে বসে শহিদদের মূল সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে শাপলার শহীদদের স্মরণ করে ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সভাপতি মুহা: মুহিউদ্দীন খান বলেন, এই গণহত্যা মুসলিম রাজনৈতিকদের উপর করা একটি হামলা। এই গণহত্যার মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে মুসলমি রাজনৈতিকতা থাকবে না থাকবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। আমরা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
এসময় আলোচনাসভায় রোজায় রাসুল (স.) এর উপর সিরাত আয়োজনে জয়ী হওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীকে পুরষ্কৃত করা হয়।






