ক্যাম্পাস
জুলাই শহীদ আলিফের বাবাকে মারধরের হুমকির অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রান্তিক গেট সংলগ্ন এলাকায় দোকান বসানোর চেষ্টা, দোকানদারদের হুমকি এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ আলিফের বাবাকে বাসায় গিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সেলিম রেজা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।
রোববার (৩ মে) বিকেলে প্রান্তিক গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
শহীদ আলিফের বাবা বুলবুল অভিযোগ করে জানান, গত শনিবার জাবি ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা তাঁর অনুসারীদের নিয়ে এবং আরেক দোকানদার রেজাউলকে সঙ্গে করে প্রান্তিক এলাকায় গিয়ে দোকানগুলোর ভিডিও ধারণ করেন এবং সেখানে নতুন করে দোকান বসানোর কথা বলেন। পরদিন ওই নেতা নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে এলাকায় দোকান দখল ও নতুন দোকান বসানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ওই নেতা তাঁর সঙ্গে এবং অন্যান্য দোকানদারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। “তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। পরে আমাকে ইসলামনগরের বাসায় গিয়ে মারধরের হুমকিও দেন,”—বলেন বুলবুল।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “একজন শহীদ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণ, দোকান দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু নেতৃবৃন্দের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শহীদ আলিফের পরিবারসহ প্রান্তিক, ডেইরি গেট, বিশমাইল ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার দোকানদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা বলেন, “একজন পরিচিত ব্যক্তি ফোন করে জানান, তাঁর এক আত্মীয় ক্যাম্পাসে দোকান দিতে চান। সে কারণে আমি রেজাউলসহ প্রান্তিক এলাকায় যাই। পরে জানতে পারি, ওই এলাকার দোকানদার সমিতির সভাপতি বুলবুল ভাই ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর নম্বর নিয়ে ফিরে আসি। পরদিন জানতে পারি, কিছু দোকানদারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আমি শুধু বিষয়টি বুঝতে গিয়েছিলাম, এর বাইরে কিছু নয়।”





