ক্যাম্পাস
চবিতে গবেষণা বৃত্তি চালু, পিএইচডি ও এমফিল শিক্ষার্থীরা পাবেন আর্থিক সহায়তা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের গবেষকদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন।
চাকসু সূত্রে জানা যায়, নতুন এ বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৪ বছর মেয়াদি পিএইচডি গবেষকরা ৪০,০০০ টাকা, ২ বছর মেয়াদি এমফিল গবেষকরা ২০,০০০ টাকা এবং ৬ মাস মেয়াদি মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা ১৫,০০০ টাকা করে বৃত্তি পাবেন।
পিএইচডি ও এমফিল গবেষকদের প্রতি বছর বৃত্তি নবায়নের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে সুপারভাইজারের সন্তোষজনক মতামত এবং একাডেমিক কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বৃত্তি নবায়ন করা হবে না।
২০২৪–২৫ এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভর্তিকৃত পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাবর্ষ জুলাই–জুন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শুধুমাত্র পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া, পিএইচডি গবেষকদের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কমপক্ষে একটি করে এবং এমফিল গবেষকদের অন্তত একটি পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা থাকতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে প্রাপ্ত বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে।
গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আবেদনসমূহ অনুমোদন করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির মতো গ্রহণযোগ্য কারণে সর্বোচ্চ এক বছর সময় বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বৃত্তির অর্থ শুধুমাত্র গবেষণার কাজে ব্যয় করা যাবে; অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না।
এ বিষয়ে চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন বলেন, “এর আগে শিক্ষার্থীদের শুধু যাতায়াত খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় দেওয়া হতো। এবারই প্রথম গবেষণার জন্য এ ধরনের বৃত্তি চালু করা হয়েছে। মাস্টার্স থিসিসের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও এই বৃত্তির আওতায় আনা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও জমা দিতে হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, “যেসব শিক্ষার্থীর আবেদন অনুমোদিত হবে, তারা এই বৃত্তি পাবেন। তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি একাধিক বৃত্তি পেয়ে থাকেন, তাহলে এ বৃত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।”





