ক্যাম্পাস
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ হলের কমিটি প্রকাশ ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব কমিটি প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব স্বাক্ষরিত এসব কমিটির তালিকায় প্রত্যেকটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়।
তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠনটি এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ।
বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’-এর মুখপাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন,
“জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক শহীদের রক্তের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার কোনো প্রাসঙ্গিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো হয়নি। নিষিদ্ধ অবস্থায় ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ একপ্রকার দুঃসাহসিকতা। তবে বাংলাদেশের মানুষ জুলাইকে ভুলে যায়নি, তাই তাদের এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,
“এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্ব পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এ অবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন,
“নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের হল কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেআইনি। যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই ক্যাম্পাসে চিহ্নিত অপরাধী। তারা জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা ছাড়াও পূর্ববর্তী সময়ে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছনা এবং ছাত্র নির্যাতনের মতো বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত।”
তিনি আরও বলেন, “এটি নিশ্চিতভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার একটি ষড়যন্ত্র। ছাত্রলীগের অনেকেই এখনো ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে এবং মাদক বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উচিত এসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
এদিকে ‘নিষিদ্ধ’ কোনো সংগঠন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “অনলাইনে বা ফেসবুকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। তবে প্রকাশ্যে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। তাদের অনলাইনকেন্দ্রিক বিষয়গুলো আমরা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাব। যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কোনো কিছু করতে পারবে না।”





