ক্যাম্পাস

প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়েই ইবি শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়, প্রক্সি কাণ্ডে বিতর্ক

ইবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়েই ইবি শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়, প্রক্সি কাণ্ডে বিতর্ক- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার ৮০০ মিটার দৌঁড় ইভেন্টে প্রক্সি প্রতিযোগীর মাধ্যমে প্রথম স্থান অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।


সোমবার (৪ মে) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পরদিন মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।


এ ঘটনায় অংশগ্রহণকারী ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের কিছু কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীর যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিযোগীরা।


জানা গেছে, ৮০০ মিটার দৌঁড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুর রহমান। দ্বিতীয় হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালিদ মহিবুল্লাহ, তৃতীয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম এবং চতুর্থ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার আহমেদ।


তবে অভিযোগ রয়েছে, মাশরুর রহমান নিজে প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়ে তার পরিবর্তে অন্য একজনকে দিয়ে দৌড় করান। ওই প্রক্সি প্রতিযোগীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলীর ছাত্র।


অন্যদিকে প্রতিযোগীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ যাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, তাকে তারা মাঠে দৌড়াতে দেখেননি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান, প্রশিক্ষক সাহেব আলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে।


মাশরুর রহমানের ছবি দেখালে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী খালিদ মহিবুল্লাহ বলেন, ‘ছবির ব্যক্তি এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এক নন। আমি তাকে মাঠে দেখিনি। প্রকৃত বিজয়ীকে দেখলে অবশ্যই চিনতে পারতাম। এমন প্রতারণা প্রত্যাশিত নয়।’


চতুর্থ স্থান অধিকারী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, ‘যিনি প্রথম হয়েছেন, তার শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ছবির ব্যক্তির সঙ্গে মিল নেই।’


অভিযোগ অস্বীকার করে মাশরুর রহমান বলেন, ‘আমি ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিইনি। আমার নামে অন্য একজন অংশ নিয়েছে।’ তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে তার বিভাগে একই নামে অন্য কোনো শিক্ষার্থীও পাওয়া যায়নি।


ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি একজন বাইরের প্রশিক্ষক। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা আমার জানা নেই। প্রতিযোগিতার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’


শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অজান্তে ঘটেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি এবং অভিযুক্তকে বাদ দিয়ে অন্যদের পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়া চলছে।’


বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সম্পর্কিত খবর