ক্যাম্পাস
তা ’মীরুল মিল্লাত মহিলা শাখার আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন: মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

বিকাল তিনটায় ৩.০০ টায় ঢাকা তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে মহিলা শাখার আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান ২০২৬ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মাদ্রাসার মহিলা শাখার ইনচার্জ মাসুদা আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা নেত্রী আয়েশা বেগম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু নেত্রী সাবিকুন্নাহার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট স্কলার ও শিক্ষাবিদ আলী হাসান ওসামা, মাওলানা আবুল কাসেম গাজী, মাওলানা ফছীহুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুখিমন খাতুন, তাজকিয়া ও সামিয়া রহমানসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান মেহমানের বক্তব্যে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, "তা’মীরুল মিল্লাত কেবল গতানুগতিক শিক্ষার প্রসার ঘটায় না, বরং সমাজ সংস্কারের জন্য একদল যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক তৈরি করে। আলিম পরীক্ষা তোমাদের উচ্চশিক্ষার ও জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ধর্মীয় নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তোমরা শুধু পরীক্ষায় সফল হবে না, বরং তোমাদের মেধা ও সততা দিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে।"
প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মহিলা নেত্রী আয়েশা বেগম বলেন, "একটি আদর্শ ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষিত ও নৈতিকতাসম্পন্ন নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামী দিনের সমাজ ও পরিবারের মূল কাণ্ডারি। তোমাদের কেবল ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, বরং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজ থেকে কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে হবে। দেশ ও ইসলামের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করার মানসিকতা এখন থেকেই ধারণ করতে হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু নেত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, "মেধাবী ও যোগ্য নারীদের জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তা’মীরুল মিল্লাত তোমাদের যে সাহসিকতা ও হকের ওপর অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছে, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সময় এসেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং অর্জিত মেধা দিয়ে দেশের গৌরব উজ্জ্বল করতে হবে।"
বিশিষ্ট বক্তা ও স্কলার আলী হাসান ওসামা তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, "পরীক্ষা কেবল খাতার পাতায় কিছু লেখার নাম নয়, এটি তোমাদের ধৈর্য ও অধ্যাবসায়েরও পরীক্ষা। তোমরা দ্বীনি শিক্ষার যে আলো এখান থেকে অর্জন করেছো, তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে সততার সাথে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই।"
বক্তব্য শেষে বিশিষ্ট বক্তা ও স্কলার আলী হাসান ওসামা পরীক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। উপস্থিত শিক্ষক ও ছাত্রীদের অশ্রুসিক্ত ও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।







