ক্যাম্পাস

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ‘মজলুম কবি’: ড. ফরিদুদ্দিন ফারুক

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ‘মজলুম কবি’: ড. ফরিদুদ্দিন ফারুক- খবরের থাম্বনেইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন ফারুক বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অর্থে ‘মজলুম কবি’। আধ্যাত্মিকতা ও ধর্ম বিষয়ে তাঁর যে গভীর উপলব্ধি ছিল, গত সাত-আট দশকে সাহিত্যচর্চা থেকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর চিন্তা ও সাহিত্যের প্রতি জুলুম করা হয়েছে।”


শুক্রবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘কাব্যকাহন: কথা ও কাব্যে রবীন্দ্র রোমন্থন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


ড. ফারুক বলেন, “হুমায়ুন আজাদের মতো ব্যক্তিরা রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ‘চৌর্যবৃত্তি’র অভিযোগ তুলেছেন, যা কবির প্রতি এক ধরনের অবিচার। অথচ বিশ্বসাহিত্যে তাঁর ব্যাপ্তি ও প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, অনেক ক্ষেত্রেই তিনি জালালুদ্দিন রুমি কিংবা উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস-এর তুলনায় অধিক বহুমাত্রিক।”


তিনি বলেন, রুমি কবিতায় অনন্য হলেও রবীন্দ্রনাথ কেবল কাব্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; গদ্যসাহিত্যের প্রায় সব শাখা, সংগীত, নাটক, প্রবন্ধ ও দর্শনেও তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন। একইভাবে সাহিত্যিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ইয়েটসের তুলনায় রবীন্দ্রনাথকে অনেক এগিয়ে রাখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের এই পরিচালক বলেন, “যারা রবীন্দ্রপ্রেমী বলে পরিচিত, তাঁদের হাতেই রবীন্দ্রনাথ সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন। রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বলয়ের কিছু মানুষ একদিকে তাঁকে ভালোবাসার দাবি করেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও তোলেন।”


তিনি আরও বলেন, “বিশ্বসাহিত্যের মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে নোবেল পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন। যদিও অনেকে তাঁকে নোবেল পাওয়ার অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাহিত্যকীর্তি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়ে এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছে।”


বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলাম-কে মুখোমুখি দাঁড় করানো আমাদের সাহিত্যচর্চার পথকে রুদ্ধ করে এবং জানার জগতকে সংকীর্ণ করে। বরং রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যাকাশের ধ্রুবতারা। তিনি আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির অনন্য সম্পদ। তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করা কখনোই উচিত নয়।”


চবির আবৃত্তি সংসদের দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন ফাহিম এবং পাঠচক্র ও পাঠাগার সম্পাদক উম্মে কুলসুম মার্সিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হারেস মাতাব্বর।


সম্পর্কিত খবর