ক্যাম্পাস
রুয়েটে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
শনিবার (৯ মে) সকাল থেকে তিন ধাপে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অনুষদভিত্তিকভাবে নবাগত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে পুরকৌশল অনুষদের, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের এবং সকাল ১১টা ১০ মিনিটে যন্ত্রকৌশল অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দপ্তর পরিচালকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রুয়েট দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; এর শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি নবাগতদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার নবীনদের রুয়েট পরিবারে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু উচ্চশিক্ষার নয়, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি র্যাগিং ও বুলিংবিরোধী কঠোর নীতিমালা, স্বাস্থ্যবিমাসহ শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নবাগতদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শৃঙ্খলা, গবেষণা, নৈতিকতা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে র্যাগিং, বুলিং ও যেকোনো অপ্রীতিকর আচরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়েও শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া, আবাসন সুবিধার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তড়িৎ ও টেলিযোগাযোগ কৌশল (ইটিই) বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী আলমাস হোসেন আদিব বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের একটি গ্রাম থেকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রুয়েটে সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি রুয়েটে একটি সহযোগিতাপূর্ণ ও আন্তরিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী ১০ মে থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ নবীনবরণ আয়োজন নবাগত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজিত হতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং তাঁদের মেধা ও মননের পূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


