বাণিজ্য

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকেন্দ্রিক বাজেটের আহ্বান জেবিসিসিআই’র

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকেন্দ্রিক বাজেটের আহ্বান জেবিসিসিআই’র- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিস্তৃত সুপারিশমালা প্রকাশ করেছে। 


এতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং আরো বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগ, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং লজিস্টিকস সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে।


আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, আসন্ন বাজেটে শুধু রাজস্ব আহরণের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্প সম্প্রসারণ, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


জেবিসিসিআই’র সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশকে প্রতিযোগী আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে চেম্বারটি।


বিকল্প হিসেবে তিনি আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর ১ শতাংশ করে ধাপে ধাপে কর কমানোর প্রস্তাব দেন, যাতে রাজস্ব চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যায়।


মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারেরও সুপারিশ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাটের সাধারণ হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং ব্যবসার জন্য কর পরিপালন সহজ করতে একটি অভিন্ন কাঠামো চালু করা।


তিনি আরো বলেন, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওপর মোট আয়ের ভিত্তিতে আরোপিত ন্যূনতম কর প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ, এ ধরনের কর সংকটে থাকা ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং টিকে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।


এছাড়া রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও শিল্প উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শিল্পের কাঁচামাল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম এবং উৎপাদন উপকরণের ওপর শুল্ক কমানোর আহ্বান জানান তিনি।


তিনি আরো প্রস্তাব করেন, ভ্যাট ও আয়কর ফেরতের জন্য স্বয়ংক্রিয় ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে বিলম্ব কমে এবং ব্যবসার আটকে থাকা কার্যকর মূলধন দ্রুত মুক্ত হয়।


কৌশলগত প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে জেবিসিসিআই কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বস্ত্র ও অটোমোবাইল শিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।


অটোমোবাইল খাত প্রসঙ্গে জেবিসিসিআই’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের গাড়ির বাজার বছরে ৫ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে।


তিনি স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাজারে ব্যবহৃত গাড়ির আধিপত্য ধীরে ধীরে কমানোর সুপারিশ করেন।


বস্ত্রখাতে চেম্বারটি উচ্চমূল্যের টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও মানবসৃষ্ট তন্তু (ম্যান-মেইড ফাইবার) উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে আরো উঁচু অবস্থানে যেতে পারে।


এছাড়া কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিশাল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। জেবিসিসিআই জানায়, বৈশ্বিক হালাল খাদ্য বাজারের আকার ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হলেও বাংলাদেশ এখনো এই বাজারের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।


সংগঠনটি লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরে। তারা জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, যা প্রতিযোগী অর্থনীতিগুলোর ৮ থেকে ১০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দরে আরো বেশি অটোমেশন চালুর আহ্বান জানানো হয়, যাতে জাহাজের অবস্থানকাল ও কনটেইনার খালাসের সময় কমানো যায়।


জেবিসিসিআই আরো সুপারিশ করে, সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ‘বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ ভেসেলস (প্রোটেকশন) আইন, ২০১৯’ বাতিল করা উচিত।


পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং পরস্পরবিরোধী নীতি দূর করতে দেশের ৪৭টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।


চেম্বার নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের প্রতিও সমর্থন জানান এবং তাদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেন।


নীতি বাস্তবায়ন ও বাণিজ্য সহায়তা কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রৈমাসিক সংলাপ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া এবং সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ।


সম্পর্কিত খবর