ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাসের ব্যস্ততায় 'মা': এক টুকরো সোনালী রোদ্দুর

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ক্যাম্পাসের ব্যস্ততায় 'মা': এক টুকরো সোনালী রোদ্দুর- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হাজারো শিক্ষার্থীর দিন কাটে ক্লাস, পরীক্ষা, বন্ধুবান্ধব আর ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। তবে এই ব্যস্ত জীবনের আড়ালেও থেকে যায় এক গভীর শূন্যতা তা হলো- মায়ের অভাব। বিশ্ব মা দিবসে সেই অনুভূতিই যেন আরও বেশি করে নাড়া দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জীবনে।


দূর শহর কিংবা গ্রামের বাড়ি ছেড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে মা শুধুই একজন অভিভাবক নন, তিনি ভালোবাসা আর মানসিক প্রশান্তির সবচেয়ে বড় ঠিকানা। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও মন খারাপের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মায়ের কথা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে বন্ধু ও সহপাঠীরা পাশে থাকলেও মায়ের অভাব কখনো পূরণ হয় না। বিশেষ করে অসুস্থতা কিংবা মানসিক চাপের সময়ে মায়ের সান্নিধ্যের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।


বিশ্ব মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে মাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেগঘন পোস্ট, ছবি ও স্মৃতিচারণ। কেউ লিখেছেন মায়ের ত্যাগের কথা, কেউবা দূরে থেকেও মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


দিনশেষে ক্যাম্পাস জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে মা রয়ে যান সবচেয়ে আপন মানুষ হয়েই। মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগকে স্মরণ করার এক আবেগঘন দিন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম শিক্ষার্থী আরিফ আলবী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মা দিবস মানে এক বুক হাহাকার। বাড়িতে থাকলে হয়তো আজ মায়ের হাসি মুখটা দেখা হতো, কিন্তু এখানে ডাইনিংয়ের বিস্বাদ খাবার আর একাকীত্বই সঙ্গী। অসুস্থতায় যখন কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় না বা ছোটখাটো সাফল্যে কেউ জড়িয়ে ধরে দোয়া করে না, তখন প্রতিটি নিঃশ্বাসে মায়ের শূন্যতা হাহাকার করে ওঠে।


মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী লামিয়া বিশ্বাস বলেন, ক্যাম্পাস লাইফে মা দিবসের একটাই অনুভূতি -মাকে যতটা ভালোবাসি, তার চেয়েও বেশি মিস করি। হলের খাবারে পেট ভরলেও, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আর ভালোবাসার অভাব থেকেই যায়। ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ কোনো রাতে মায়ের কণ্ঠ শুনতে মন অস্থির হয়ে ওঠে। দূরে থাকলেই বোঝা যায়, 'মা' শুধু একজন মানুষ নন, তিনি পুরো একটা শান্তির জায়গা।


আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মাকেই জানাই সালাম ও শ্রদ্ধা। কোনো মূল্যেই মায়ের তুলনা হয় না। আজ বিশ্ব মা দিবসে যদি মায়ের কাছে থাকতে পারতাম তাহলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে হতো। কিন্তু পড়াশোনার তাগিদে আজ মা থেকে অনেক দূরে। ক্যাম্পাস লাইফে মায়ের শুন্যতা আসলেই বুকে নাড়া দিয়ে ওঠে। পরিশেষে সবাইকে জানাই 'মা' দিবসের শুভেচ্ছা।


ইনফরমেশন এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পুতুল আক্তার বলেন, 'মা' একটি শব্দই না। মা বলতে আমি আমার পুরো পৃথিবীকে বুঝি। মা বলে ডাক দিতে এক অদ্ভুত শান্তি পাই। যা পৃথিবীর সব সুখকে হার মানায়। মা, ও-মা, মাগো এই তিনটি শব্দ আমার শান্তি। যার কাছে সকল কষ্টের নিবারণ হয়।


সম্পর্কিত খবর