ক্যাম্পাস
হত্যার ২৯৭ দিনেও চিহ্নিত হয়নি সাজিদের খুনি, প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের ২৯৭ দিনেও খুনিদের চিহ্নিত করতে না পারার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করে তারা।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু দাউদ, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সাবেক সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক সায়েম আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার না হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী এখন ক্যাম্পাসে অনিরাপদভাবে বসবাস করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই আর কতদিন সময় লাগবে আপনাদের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে? আপনাদের এই ঢিলেমির কারণে যদি সামনে আর কোনো শিক্ষার্থীর বিন্দু পরিমাণ কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদেরকেই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনার সন্তান যদি হত্যা হতো তাহলে আপনি বিচারের দাবিতে ঠিকই মাঠে নেমে যেতেন। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যখনই সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে মাঠে নামে, তখনই আপনারা ছলচাতুরী করে প্রসঙ্গ অন্যদিকে নিয়ে যান। আপনারা যদি বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। যদি দায়িত্ব না নিতে পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। দায়িত্বে বসে থেকে শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগানোর কোনো কারণ আছে বলে আমাদের মনে হয় না।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু দাউদ বলেন, শহীদ সাজিদ হত্যাকাণ্ডের ২৯৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য দাবি জানালেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমার কাছে মনে হইছে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। যদি জড়িত না থাকত তাহলে অবশ্যই তারা প্রতিকারে ব্যবস্থা নিত। যেহেতু কোনো একটা অজানা কারণে তারা বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। নিশ্চয়ই কোনো অজানা কারণে এই প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব জানে যে কে সাজিদকে হত্যা করছে। কোনো এক গুপ্ত কারণেই আমাদের এই মামলার কোনো সুরাহা হচ্ছে না। তদন্ত তদন্ত খেলায় মেতে আছে প্রশাসন। অথচ তদন্তের রিপোর্ট আমরা পাচ্ছি না। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিচার দ্রুত না করে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমার ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, কালকে যে আমি হব না এর নিশ্চয়তা কোথায়? পরবর্তীতে যেন কেউ আর হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয় এই কারণেই সাজিদ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আমাদের কেউই এই ইউনিভার্সিটিতে এখন নিরাপদ না। আমাদের এই জীবন ঝুঁকির কারণেই আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করব।
উল্লেখ্য, গতবছর ১৭ জুলাই বিকেল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রাপ্ত ভিসেরা রিপোর্টে সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। পরে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ইবি থানার পুলিশ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস পেরোলেও সাজিদ হত্যার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সাজিদের বাবার আবেদনে সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে পালটে মহব্বত হোসেনকে দেওয়া হয়েছে।







