সারাদেশ

নওগাঁয় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৮ লাখ পশু, চাপে খামারিরা

ডেস্ক

শেয়ারঃ

নওগাঁয় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৮ লাখ পশু, চাপে খামারিরা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

নওগাঁয় আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। জেলার চাহিদার তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঈদের এখনও দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি থাকায় জেলার পশুর হাটগুলো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করছেন। এবার জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার। এর বিপরীতে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি পশু।


সরেজমিনে বিভিন্ন খামারে দেখা গেছে, দেশি ও শাহীওয়ালসহ বিভিন্ন জাতের গরু কোরবানির উপযোগী করে তোলা হয়েছে। খামারিরা নিয়মিত গোসল, পরিচর্যা, খাদ্য প্রদান এবং খামার পরিষ্কার রাখার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই পশু মোটাতাজাকরণের চেষ্টা চলছে।


তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে দানাদার পশুখাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক মজুরি ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাজারে সে অনুপাতে পশুর দাম না বাড়ায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার খামারি একরামুল হাসান বলেন, তার খামারে ১০৬টি গরু রয়েছে, যার অধিকাংশ শাহীওয়াল জাতের। প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি ৩১টি ছাগলও রয়েছে। তিনি জানান, পশুর নিয়মিত পরিচর্যা ও খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আরেক খামারি উজ্জল হোসেন জানান, এ বছর ৫টি গরু পালন করছেন তিনি। গত কয়েক মাসে খুদের বস্তার দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার টাকা হয়েছে। ফিডের দামও ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


আরজি নওগাঁ এলাকার খামারি সাইফুর রহমান বলেন, এবার ২০ থেকে ৩০টি গরু প্রস্তুত করা হলেও খরচ অনেক বেশি হয়েছে। শ্রমিকসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, নওগাঁ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারির দাবি জানান তিনি।


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন বাড়াতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পশু সুস্থ থাকবে এবং উৎপাদন খরচও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর